Home / অপরাধ / মাকালকান্দি গণহত্যা
makalkandi+gonohotta+1971mbd-2

মাকালকান্দি গণহত্যা

…পাক বাহিনী চন্ডি মন্দিরের সামনে দাঁড় করিয়ে তরনী দাশ, দীনেশ দাশ, ঠাকুর চান দাশ, মনোরঞ্জন দাশ, প্রভাসিনী বালা দাশ, চিত্রাঙ্গ বালা দাশ, সোহাগী বালা দাশসহ ৭৮ জনকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এর মধ্যে ৪৪ জনই নারী।…

makalkandi+gonohotta+mbd-3

মাস্টারি বিডি ডটকম
হবিগঞ্জ । ১৭ আগস্ট ২০১৭ । ০২ ভাদ্র ১৪২৪

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার হাওর অঞ্চল কাগাপাশা ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামটির নাম মাকালকান্দি। ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এ দিনে গ্রামের ৪৪ জন নারীসহ ৭৮ জন নিরপরাধ হিন্দুকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে পাকহানাদার বাহিনী। ঘাতকরা এতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের পর নারীদের সম্ভ্রমহানী ঘটায়। পরে গ্রামবাসীর মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই ভয়াল দিনের স্মৃৃতি বুকে নিয়ে আজও নীরবে চোখের অশ্রু ফেলছেন স্বজনরা।

১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট সকালে মাকালকান্দি গ্রামের চন্ডি মন্দিরে মনসা ও চন্ডিপূজার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পূজারীরা। এ সময় স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় ৪০ থেকে ৫০টি নৌকাযোগে পাকবাহিনী এসে গ্রামে হামলা চালায়।

Genocide+25+march+mbd

পাক বাহিনী চন্ডি মন্দিরের সামনে দাঁড় করিয়ে তরনী দাশ, দীনেশ দাশ, ঠাকুর চান দাশ, মনোরঞ্জন দাশ, প্রভাসিনী বালা দাশ, চিত্রাঙ্গ বালা দাশ, সোহাগী বালা দাশসহ ৭৮ জনকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এর মধ্যে ৪৪ জনই নারী।
হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় পাক বাহিনী লুট করে তাদের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেয় অনেক বাড়ি ঘর। এতে জান-মাল, সহায়-সম্বল হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন। পাক-বাহিনীর হামলার পরও বেঁচে যাওয়া লোকজন পুনরায় হামলার আশংকায় ভারতে পালিয়ে যান। পথে ডায়ারিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও অন্তত ৫০ জন প্রাণ হারান।

makalkandi+gonohotta+mbd-6

বানিয়াচং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল খালেক জানান, ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট রাজাকারদের সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনী মাকালকান্দি গ্রামে নারকীয় হত্যাকান্ড চালায়। এই গণহত্যায় অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু সরকারিভাবে তাদেরকে পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালে এলাকাবাসীর দাবির মুখে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকীর প্রচেষ্টায় থোক বরাদ্দের অনুদানে সেখানে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়। সেই স্মৃতি সৌধে এবারও ১৮ আগস্ট সকালে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী ফুল দিয়ে স্মরণ করবে শহীদদের। বাসস

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

27 9 26 11144

আমরা অবকাঠামো, কৃষি, জীবিকা ও জলবায়ু তথ্যকে আলাদা বিষয় হিসেবে দেখছি না। এগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত’: বেলাল হোসেন

 রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ । মাসস জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানো ও গ্রামীণ জীবিকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.