মাস্টারি বিডি ডটকম
জয়পুরহাট । ১৭ আগস্ট ২০১৭ । ০২ ভাদ্র ১৪২৪
জয়পুরহাট জেলায় ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে তুলশীগঙ্গা নদীর পানি বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্কুলে শিক্ষার্থীরা আসতে না পারায় জেলায় ব্র্যাক পরিচালিত ১৮টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭টি ও ৪ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র বাসস’কে জানায়, বন্যা বা যেকোন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনকে সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. মোকাম্মেল হক সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বিভিন্ন দফতরের ক্ষয়-ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, রোপা আমন ধান ৮ হাজার হেক্টর, শাক সবজি ৫শ হেক্টর, পান ২ হেক্টর পানির নিচে রয়েছে। এ ছাড়াও, ৩ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি আকতারুল ইসলাম সভায় জানান, ১৮ ব্র্যাক পরিচালিত স্কুলের ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় শিশুরা স্কুলে আসতে পারছে না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বেগম বদরুজ্জেহা জানান, ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসার ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ জানান, ৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে যাওয়ায় ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মারজান হোসেন জানান, তুলশীগঙ্গা নদীর পানি বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তুলশীগঙ্গা নদীর উভয় বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কাবস্থায় রয়েছে পানি উন্নয়ন বিভাগের লোকজন। অপর দিকে জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ ও বানিয়াপাড়া এলাকায় সড়কের ৩ ফুট ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ওই রুটে যান চলাচল করতে পারছে না। সদরের সোটাহার, ধারকী, চক দাদরা, বানিয়াপাড়া, ঘোনাপাড়া, নামা ধারকী, আমদই ইউনিয়নের সুন্দরপুর, মুরারীপুর, রাংতা, ঘোনাপাড়া, গুয়াবাড়ি, পাইকর, গোপালপুর, পলিকাদোয়া, কাদোয়া, চান্দাপাড়া, মাধাইনগর, আমদই ও কেন্দুলী মাঝিপাড়া গ্রামের গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর, কুসুম্বা, মোহাম্মদপুর, আওলাই ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষেতলাল উপজেলার তুলশীগঙ্গা ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আক্কেলপুর উপজেলার আওয়ালগাড়ী, মিনিগাড়ী, ভিকনী, হোসেন নগর, ভানুকান্দা, দেওগ্রাম এলাকার বাড়ি ঘরে পানি ঢুকেছে। ওই এলাকার তুলশীগঙ্গা নদীর ৫টি স্থানে বাঁধ মেরামত করা হয়েছে বলে জানান, ভারপ্রাপ্ত ইউএনও সাবিহা সুলতানা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে ৩ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হরিপদ চন্দ্র রায়।
জেলা প্রশাসক মো. মোকাম্মেল হক বলেন, উজানের ঢলে ফসল তলিয়ে যাওয়াসহ কিছু বাড়ি ঘরে পানি ঢুকেছে। বন্যা মোকাবেলায় জেলা ত্রাণ কর্মকর্তার নেতৃত্বে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৪০ টন চাল ও ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম