ব্যঙ্গচিত্রসহ ঊনবিংশ শতাব্দীর কনডম এখন প্রদর্শনীতে
Mastary Sangbad
জুন ৪, ২০২৫
আন্তর্জাতিক, জীবনশৈলী, প্রচ্ছদ, ব্যানার, ব্রেকিং নিউজ
256 Views
ঢাকা, বুধবার ০৪ জুন ২০২৫ মাসস
প্রায় আট ইঞ্চিরও কম দৈর্ঘ্যের এই কনডমটি এখনো ‘মিন্ট কন্ডিশনে’ রয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে প্রথমবারের মতো সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে একটি ব্যতিক্রমী শিল্পবস্তু। এটি আসলে কোনো চিত্রকর্ম বা ভাস্কর্য নয়, বরং ঊনবিংশ শতাব্দীতে তৈরি একটি কনডম। এটি তৈরি হয়েছিল ভেড়ার অ্যাপেন্ডিক্স দিয়ে এবং এর গায়ে ছাপা রয়েছে একটি স্পষ্টতই বিদ্রুপাত্মক ও অশ্লীল চিত্র—একজন সন্ন্যাসিনীকে ঘিরে তিনজন উত্তেজিত যাজক।
প্রায় আট ইঞ্চিরও কম দৈর্ঘ্যের এই কনডমটি এখনো ‘মিন্ট কন্ডিশনে’ রয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের ওই জাদুঘরের প্রিন্টস সেকশনের কিউরেটর জয়েস জেলেন জানিয়েছেন, ইউভি টেস্টে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি কখনো ব্যবহার করা হয়নি।১৮৩০ সালের একটি বিলাসবহুল পতিতালয়ের স্যুভেনির হিসেবে ধারণা করা এই কনডম সম্পর্কে জেলেন সিএনএনকে বলেন, ‘এটি সম্ভবত বন্ধুদের সঙ্গে হাস্যরস করার বস্তু হিসেবে তৈরি হয়েছিল, ব্যবহারের জন্য নয়।’কনডমের গায়ে খোদাই করা চিত্রে দেখা যায়, পা ফাঁক করে এক সন্ন্যাসিনী বসে আছেন এবং তিন যাজক নিজেদের পোশাক তুলে তাদের উন্মোচিত যৌনাঙ্গ প্রদর্শন করছেন। নিচে লেখার বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘এটাই আমার পছন্দ।’
হাইপারঅ্যালার্জিককে জেলেন বলেন, “এটি মূলত ধর্মীয় সেলিবেসি বা ব্রহ্মচর্য্যের ওপর একটি ব্যঙ্গচিত্র। তবে ছবির গঠনে স্পষ্টভাবেই ট্রয়ের রাজপুত্র প্যারিসের ‘জাজমেন্ট অব প্যারিসের’ উপহাস রয়েছে, যেখানে তিনি তিন গ্রিক দেবীর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরাকে বেছে নেন।”তিনি আরো বলেন, ‘এ রকম ছাপযুক্ত একটি বিলাসবহুল কনডমের সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিষয়টি এখানেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তারা সম্ভবত বিত্তবান ও পড়াশোনায় পারদর্শী কেউ ছিলেন।’জেলেন জানান, খোদাইয়ের কাজটি করা হয়েছিল তামার ছাঁচে এবং সেটি ছাপানো হয়েছিল ভেড়া বা ছাগলের সমতল করা অন্ত্রে।
যদিও এই নির্দিষ্ট বস্তুটি ব্যবহারযোগ্য ছিল না। তবু ওই সময়কালে কনডম সাধারণত একই ধরনের প্রাণীজ উপাদান দিয়ে তৈরি হতো এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও উপসর্গজনিত যৌন রোগের বিরুদ্ধে খুব সামান্যই সুরক্ষা দিত। সে সময় সিফিলিস ছিল একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।এই বিরল বস্তুটি ছয় মাস আগে হালারেমে একটি নিলামে এক হাজার ইউরোতে সংগ্রহ করে জাদুঘর। জেলেন জানান, মূল্য নিয়ে না হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুহূর্তটি ছিল অস্বস্তিকর।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বসকে ফোন করে বলতে হয়েছিল, আমরা একটা কনডম কিনতে পারি? শেষমেশ আমাকেই করতে হয়েছিল সেই ফোনটা।’এই কনডম এখন অ্যামস্টারডামের রেইক্সমিউজিয়ামের প্রিন্ট রুমে ‘সেফ সেক্স?’ শীর্ষক নতুন প্রদর্শনীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রদর্শনীটি ঊনবিংশ শতাব্দীর পতিতাবৃত্তি, কামনা ও যৌনরোগ নিয়ে গড়ে উঠেছে। এই অনন্য ইতিহাসবাহী বস্তুটি নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সূত্র : এনডিটিভি
২০২৫-০৬-০৪