মাস্টারি বিডি ডটকম
শান্তা ইসলাম । ০৬ জুন ২০১৭ । ২৩ জৈষ্ঠ্য ১৪২৪
পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যামার আইএইচসি ৩০০ এখন মাওয়ায়।
হ্যামারটি সর্বোচ্চ তিন হাজার কিলোজুল শক্তিসম্পন্ন, এর ওজন ৩৮০ টন। জার্মানির তৈরি এ হ্যামার নেদারল্যান্ডসের পোর্ট অব রটারড্যাম থেকে রওনা দিয়ে গতকাল সোমবার সকালে পৌঁছেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পাইলিং কাজে ব্যবহার করা হবে হ্যামারটি।
এত দিন ধরে ২ হাজার ৪০০ এবং দুই হাজার কিলোজুল ক্ষমতার দুটি হ্যামার পদ্মা সেতুর পাইলিং কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তৃতীয় হ্যামারটি যুক্ত হওয়ায় এখন সেতুর কাজে আরো গতি বৃদ্ধি পাবে। নতুন হ্যামারটি জাজিড়া প্রান্তে পাইলিংয়ের কাজ করবে। আর আগের দুটি হ্যামার মাওয়া প্রান্তে কাজ চালিয়ে যাবে বলে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ মাসের যেকোনো দিন পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসবে খুঁটির ওপর। এরই মধ্যে স্প্যানও (সুপারস্ট্রাকচার) প্রস্তুত করা হয়েছে। তাই স্প্যান খুঁটিতে তুলতে যে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ক্রেন আনা হয়েছে, তা ঠিকঠাক আছে; কিন্তু সেটা পরীক্ষা করে নিতে বিশেষ মহড়া হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ পদ্মা সেতু কনস্ট্রাকশনে তৈরি করে রাখা এ স্প্যান ওই দিন থেকে ক্রেনে তোলার কাজ শুরু হয়। ২৮ মে রবিবার এটি ওই ক্রেন দিয়ে ৪০ ফুট ওপরে ওঠানো হয়। তিন দফা স্প্যানটিকে ১২০ মিটির ওপরে তুলে ক্রেনটির সফল মহড়া শেষ হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের জানান, উচ্চক্ষমতার ভাসমান ক্রেন ১ এফ স্প্যানটি পদ্মায় নামিয়ে পিলারের কাছে নিয়ে যায়। স্প্যানটির ওজন প্রায় তিন হাজার টন। আর ভাসমান ক্রেনটির ধারণক্ষমতা তিন হাজার ৬০০ টন। এর আগেই চীনা বিশাল এই ভাসমান ক্রেন মাওয়ায় আসে। কয়েক মাস ধরে এটি অলস বসে ছিল। চীন থেকে আনা ১ এফ স্প্যানটিও (সুপারস্ট্রাকচার) ফিটিং করে লোড টেস্ট করে মাওয়ার কুমারভোগের ওয়ার্কশপে রাখা ছিল। কিন্তু ভাসমান ক্রেন এই বিশাল স্প্যান তুলে নিয়ে স্থাপনে সক্ষম কি না তার পরীক্ষা করা শুরু হয় গত ২৭ মে শনিবার থেকে। এটি সফলতার সঙ্গে স্প্যান তুলতে সক্ষম হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে এখনো ১৪টির চূড়ান্ত ডিজাইন অনুমোদন বাকি। দ্রুত এগুলো অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সদ্য অনুমোদন পাওয়া মাওয়া প্রান্তের ১৩ ও ১৪ নম্বর পিলারে পাইলিং শুরু হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে স্টেজ করা হয়েছে পাইল ড্রাইভের জন্য।
পদ্মা নদীর মাঝের ৪০টি পিলারের ২৪০টি এবং দুই পারে দুটি পিলারের ২৮টিসহ মূল সেতুর মোট ২৬৮টি পাইল স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে নদীতে ৫৯টি এবং তীরের ১৬টি মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট পাইল স্থাপন করা হয়েছে ১৪ পিলারে ৭৫টি। এ ছাড়া দেড় কিলোমিটার করে উভয় প্রান্তে তিন কিলোমিটার সংযোগ সেতুর (ভায়াডাক্ট) জন্য আরো ৩৬৫টি পাইল করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাওয়া অংশে ১৭২টি এবং জাজিরা অংশে ১৯৩টি পাইল রয়েছে।
এদিকে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের কাজও চলছে হরদম। এ কাজের অগ্রগতি ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর উজানে মাওয়া পুরনো ঘাট থেকে যশোলদিয়া ও কান্দিপাড়ার প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় নদী শাসনের প্রতিরক্ষা কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নদী শাসনের কাজের পাশাপাশি তীরে ব্লক বিছানোসহ সব কাজই সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতুর প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা অর্থায়নে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (নদী শাসন) মো. সারফুল ইসলাম জানান, নদী শাসনের কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। এ অংশের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্প ঝুঁকিমুক্ত ছাড়াও এলাকার নদীভাঙনের শঙ্কা কেটে গেছে।
সৌজন্যে : কালের কণ্ঠ
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম