মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
কক্সবাজারের চকরিয়া একটা সময় অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি ছিলো। আশির দশকের গোড়ার দিকে সেই সৌন্দর্যের ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। চিংড়ি চাষের নামে একদল অর্থলোভী গাছ কেটে ধ্বংস করতে থাকে সেই অপার সৌন্দর্য।ক্রমেই সবুজ উধাও হয়ে বাড়তে থাকে বালুময় বিরানভূমি। দুর্বৃত্তদের হাতে এভাবে কয়েক বছরের মধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে যায় প্রায় ২৮ হাজার একরজুড়ে গড়ে ওঠা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট (প্যারাবন)। নৈসর্গিক দৃশ্য মেলে ধরা এই বনের পরিচিতি ছিল কক্সবাজারের ‘চকরিয়া সুন্দরবন’ হিসেবে। এই নিধনযজ্ঞের মহড়ায় সর্বশেষ যোগ হয় প্রকৃতির আঘাত। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় হ্যারিকেন আঘাত হানে পুরো উপকূলে। কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডবে উপকূলীয় এলাকা পরিণত হয় বিরানভূমিতে। ব্যাপক জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি অস্তিত্ব হারায় চকরিয়া সুন্দরবন।
তবে আশার খবর। চকরিয়ার উপকূল তথা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া চকরিয়া সুন্দরবনে নতুন করে বাইন, কেওড়া, গেওয়াসহ লবণসহিষ্ণু প্যারাবন সৃজনের উদ্যোগ নেয় জাপানভিত্তিক পরিবেশবাদী সংস্থা ‘দ্য অর্গানাইজেশন ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পিরিচুয়াল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাডভান্সমেন্ট (ওআইএসসিএ) ইন্টারন্যাশনাল। এই শুভ উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯২ সালে। পরবর্তী সময়ে ওই সংস্থার ব্যানারে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর বাংলাদেশে এসে সরাসরি চকরিয়া সুন্দরবনের জেগে ওঠা চরে প্যারাবন সৃজন শুরু করেন। অব্যবহিত এই সময়ের মধ্যে জাপানি সংস্থাটি কম করে হলেও ২০ লাখের মতো চারা রোপণ করে। এর মধ্যে বয়স অনুপাতে বেশ কিছু প্যারাবন কোথাও ১০ মিটার, ১৫ মিটার, এমনকি ২০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় দাঁড়িয়ে গেছে। হারানো সৌন্দর্য ফিরে পেতে শুরু করেছে চকরিয়া সুন্দরবন। আর সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ইতিমধ্যে অনেকেই দলবদ্ধভাবে ছুটে যাচ্ছে এই বনে।
এখানে যে পরিমাণ প্যারাবন দাঁড়িয়ে রয়েছে, তার নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে অনেকেই ছুটে যান। কিন্তু এই বন নিয়ে তেমন প্রচার নেই। ভালোভাবে প্রচার পেলে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে পারলে এই প্যারাবন দ্রুতই ভ্রমণপিপাসু ও পর্যটকদের জন্য আলাদা বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হবে।
সূত্র: ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার), কালের কণ্ঠ
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম