Home / জাতীয় / ডব্লিউইএফ সম্মেলন : অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৃহত্তর সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ
pm+wef+pani+mbd

ডব্লিউইএফ সম্মেলন : অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৃহত্তর সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ০৬ মাঘ ১৪২৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং আন্তঃদেশীয় বিশুদ্ধ পানিসম্পদের ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি বুধবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সাইড লাইনে ওয়ার্ল্ড আন্ডার ওয়াটারের ওপর এক আলোচনায় ভাষণে বলেন, ‘পানি হচ্ছে সম্পদ। আমাদের জন্য শহর, গ্রাম এবং সারাজীবন প্রত্যেকের জন্য বেঁচে থাকার লড়াই। তাই পানির মূল্য আমাদের জানা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন অথবা উৎপাদনের জন্য পানির অবাধ যোগান এবং অসীম সম্পদ হতে পারে না। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের পথে পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অসমতা থেকে সমতায় আনতে বিশুদ্ধ পানি ও সমুদ্র সম্পদ খাতে এই সহযোগিতা ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর এবং বিভিন্ন উপকূলীয় ও দ্বীপ রাষ্ট্রসমূহের অস্তিত্ব নির্ভর করছে বিশুদ্ধ পানি ও সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের সক্ষমতার ওপর। তিনি পানিসম্পদ খাতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা বৃদ্ধির প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, যে কোনো সমাধান আমাদের বিপুলসংখ্যক গরীব ও প্রান্তিক জনগণের জন্য লাভজনক ও টেকসই হবে। বাংলাদেশ বৈশ্বিক পুঁজি ও জ্ঞান প্রদানকারীদের মধ্যে যে কোনো ধরনের অংশীদারিত্বের কথা বিবেচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির চাহিদার ওপর যে কোনো সহযোগিতা জনগণ, রাষ্ট্র ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে। তিনি ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের নৌ-সীমানার শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথাও উল্লেখ করেন।

প্রযুক্তিকে ওয়াটার কনভারসেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তন ও কৃষির ভার্টিকেল ট্রান্সফরমেশন বিশুদ্ধ পানির উৎস বৃদ্ধি এবং ভূগর্ভস্থ পানির চাহিদা পূরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবন্টন সমস্যা সমাধানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তঃদেশীয় চুক্তি বাস্তবায়নে আরো প্রচেষ্টা চালানো দরকার।

‘ওয়ার্ল্ড’স আন্ডারওয়াটার’ শিরোনামের ওই আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই আলোচনায় জরুরি বিষয় হলো ‘ওয়াটার টেকনোলজি’।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বাদু পানির যে চাহিদা তার ৭০ শতাংশই কৃষিতে লাগে। ধান উৎপাদনে যে পানি লাগে তা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সমাধান খোঁজা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনীতি এবং কৃষিতে রূপান্তরের মাধ্যমে এই খাতে পানির চাহিদা বাড়ছে। অন্যদিকে স্বাদু ও ভূগর্ভস্থ পানির উৎসগুলো ক্রমশ ক্ষয়ে আসছে। এ কারণে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের পুরো প্রক্রিয়ায় পানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ‘আমাদের আরও প্রযুক্তির ব্যবহারের সুযোগ দরকার’।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কৃষিতে পানি সাশ্রয়ী এবং ভিন্ন পরিস্থিতি সামলে টিকে থাকতে সক্ষম প্রজাতি উদ্ভাবনের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ৪৮ শতাংশ মানুষ শহরে বাস করবে। সে কারণে আঞ্চলিক পর্যায়ে পানি ব্যবস্থাপনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পানি নিয়ে যাদের বিশেষায়িত জ্ঞান রয়েছে এবং যারা অর্থ যোগান দেন তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় ও কমিউনিটি পর্যায়ে কর্মরতদের যে কোনো ধরনের অংশীদারিত্ব তৈরিতে সরকারের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনায় আন্তঃসীমান্ত উৎসগুলোর যথাযথ ব্যবহার, সামুদ্রিক পানির ব্যবহার এবং সব পক্ষের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণের কথা বলেন তিনি।

প্রায় অর্ধশত দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের অংশগ্রহণে মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভার কার্যক্রম উদ্বোধন হলেও বুধবারই শুরু হয়েছে মূল অধিবেশন।

এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা ‘ধনীদের আলোচনা সভা’ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সভায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

সূত্র : বাসস ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

29 6 25 1111

চলে গেলেন দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫আষাঢ় ১৪৩৩ | মাসস বাংলাদেশে শিশুদের শিক্ষামূলক টেলিভিশন অনুষ্ঠান বলতে যে কয়েকটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.