মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ভোলা । ০৯ নভেম্বর ২০১৭ । ২৫ কার্তিক ১৪২৪
জেলায় চলতি বছর আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এখানে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বেশি হয়েছে। নির্ধারিত জমি থেকে এবছর ৪ লাখ ২০ হাজার ৮১০ মে:টন চাল উৎপাদনের টার্গেট নিয়েছে কৃষি বিভাগ। ভালো ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, জেলার ৭ উপজেলায় মোট আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। আর আবাদ সম্পন্ন হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে উফশী জাতের আমন আবাদ হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর। বাকি জমিতে স্থানীয় জাত আবাদ হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জেলায় সাধারণত উফশীর মধ্যে বিআর-১১, ২২, ২৩,। ব্রি-ধান-৪০, ৪৪, ৪৬, ৫১, ৫২, ৬২, ৭৩, ৭৬ ইত্যাদি। এছাড়া স্থানীয় জাতের মধ্যে কাজল সাইল, কালাগাড়া, মধুমালতী, কালিজিড়া, লোতর, টেবু সাইল, ডিকজ, সাদা মোটা জাতের আবাদ বেশি করা হয়।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয় তালুকদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ৭ উপজেলায় মোট আমন ধান আবাদের মধ্যে সদরে হয়েছে ২৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে, দৌলতখানে হয়েছে ১৬ হাজার ৫৪০ হেক্টর, বোরহানউদ্দিনে ১৮ হাজার ৫০০, লালমোহনে ২৩ হাজার ৭৫০, তজুমুদ্দিনে ১১ হাজার ৮০০, চরফ্যাসনে ৭০ হাজার ৫৬০ ও মনপরায় ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে চারা রোপন কার্যক্রম শুরু করা হয়। নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বরের প্রথম দিকে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবে। আর কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের কৃষক নাগর আলী, মোস্তাফিজুর রহমান ও রাসেল সর্দার বলেন, তারা এবার ২ একর জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। এবছর রোগ-বালাই ও পোকা আক্রমন না থাকায় তাদের ফলন ভালোর দিকে। বর্তমানে ফসলে ধান এসেছে। তাই শেষ সময়ের পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রসান্ত কুমার সাহা বলেন, এবছর এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোন জমি আক্রান্ত হয়নি। ধানের মাঠ ভালো অবস্থানে রয়েছে। রোগ-বালাই ও পোকার উপদ্রব গত বারের তুলনায় নেই বল্লেই চলে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুককূলে থাকলে জেলায় আমনের বাম্পার ফলনের হবে বলে জানান তিনি।
জেলার সবচে বেশি আমনের আবাদ হয়েছে চরফ্যসন উপজেলায়। এখানে ৭০ হাজারেরও বেশি হেক্টর জমিতে আমান চাষ হয়েছে। এখানকার কৃষক লুৎফর কাজী ও হুমায়ুন মোল্লা জানান, তারা ৩০ বছর ধরে আমন আবাদ করছেন। শেষ পর্যায়ের রোগ-বালাই থেকে রক্ষা পেতে মাঠ কর্মীরা তদারকি করছেন বলে জানান তারা।
উপ-পরিচালক আরো বলেন, ধানের এই পর্যায়ে ব্লাস্ট রোগ, গান্ধী পোকা, ধানের শীষের পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, বাদামী ঘাস ফরিং লাগতে পারে। তাই এসব হলে করণীয় সম্পর্কে কৃষকদের আগাম ধারনা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে জেলায় উন্নত জাতের আমন বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বীতরণের জন্য প্রায় আড়াইশ আমন ক্ষেতের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম