মাস্টারি বিডি ডটকম । শান্তা ইসলাম
হবিগঞ্জ । ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ । ০৫ পৌষ ১৪২৪
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর একদিন খাঁচায় থাকার পর আবারও আপন ঠিকানায় ফিরে গেল বানিয়াচংয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পাড়া মেছো বাঘটি। মুক্ত বনে ছাড়া পেয়ে প্রথমে কিছুটা হত-বিহ্বল হয়ে পড়লেও পরে এক দৌঁড়ে চলে যায় দৃষ্টি সীমার বাইরে। ওই যে কথায় আছে না- ‘বন্যেরা বনে সুন্দর – শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’।
রোববার রাতে চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে এটিকে অবমুক্ত করেন হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষণ এজেডএম হাসানুর রহমান ও চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভময় বিশ্বাস। এর আগে রোববার সকালে বাঘটি স্থানীয়দের ফাঁদে ধরা পড়ে। এরপর সারাদিন ধরে এটিকে দেখতে ভিড় করেন এলাকাবাসী। একটি মহল বাঘটিকে বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশের পর বন বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সারাদিন নানা আলোচনার পর সেটিকে উদ্ধার করে রাতে সাতছড়িতে অবমুক্ত করা হয়।
ওই এলাকার শিক্ষানবীস আইনজীবী দিদারুল আলম সৌরভ জানান, প্রায় ১৫ ঘন্টা বন্দী ছিল এই মেছো বাঘ। এ সময় সে কিছু খায়নি। এক পর্যায়ে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রকৃতির শোভা এই বন্য প্রাণীটিকে নিজের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে পেরে তিনি আনন্দিত।
ওসি শুভময় বিশ্বাস জানান, বাঘটি সোমবার অবমুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু বন্দী অবস্থায় থেকে সে কিছু খাচ্ছিল না। তাই বন বিভাগের সাথে সমন্বয় করে রোববার দিবাগত রাতেই অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকার শুটকি নদীর বাঁধে বেশ কয়েকটি হাঁসের খামার রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো খামার থেকে হাঁস ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো মেছো বাঘটি।
রোববার রাতে স্থানীয় আরাফাত আলী, মামুন ও শাহেদ মিয়া মিলে একটি ফাঁদ পেতে রাখেন খামারের কাছে। রাতে না এলেও সকালে মেছো বাঘটি ফাঁদে আটকা পড়ে।
হবিগঞ্জের উপ-বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান জানান, এখন হাওরাঞ্চলের পানি কমতে শুরু করেছে। মাছ খাওয়ার উদ্দেশে হয়তো মেছো বাঘটি বনাঞ্চল থেকে সেখানে গিয়েছিল। আমরা সেটিকে দ্রুত অবমুক্ত করেছি। আমরা আনন্দিত।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম