মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ১৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ৩০ পৌষ ১৪২৩
কমপক্ষে ২৫ ও ১০ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন-এমন দুই শতাধিক স্বেচ্ছায় রক্তদাতাকে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মাননা জানিয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত রক্তদাতাদের এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও বিএসএমএমইউ-এর সেন্টার ফর প্যালিয়েটিভ কেয়ারের প্রধান অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমদ।
স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন সামিনা মুসতারিন ও নিয়মিত রক্তগ্রহীতাদের মধ্য থেকে অনুভূতি জানান থ্যালাসেমিয়া রোগী নিলুফার ইয়াসমীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, মুর্মূর্ষু রোগীর জীবন রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রক্তদান।
তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদানকে মানব সেবার একটি মহৎ কাজ উল্লেখ করে এই কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সকলকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক কামরুল হাসান আরও বলেন, যারা বার বার রক্তদানের মতো মহৎ কাজ করেন, প্রকৃত অর্থে তারা মহামানব। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদানের মতো সত্য ও সুন্দরের সাথে আমরা যেন সকল সময় থাকি, সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ এর মাধ্যমে অনেক মানুষের জীবন রক্ষা পায়।
মাদাম নাহার আল বোখারী রক্তদাতাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে দেশের রক্তের চাহিদার ঘাটতি মেটানোর আশা ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ ব্যাগ নিরাপদ ও সুস্থ রক্তের চাহিদা রয়েছে। রক্ত ঘাটতির বিপুল এ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই ১৯৯৬ সাল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। গত এক যুগের প্রচেষ্টায় প্রায় সাড়ে ৮ লাখের বেশি মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রত্যেক সক্ষম নারী-পুরুষ প্রতি চার মাস পর পর স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে এই তাৎপর্যপূর্ণ সামাজিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে পারেন।
তারা বলেন, নিয়মিত রক্ত দিয়ে মুমূর্ষের জীবন বাঁচানোর স্বর্গীয় আনন্দের পাশাপাশি রক্তদাতা মুক্ত থাকবেন উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের মতো জটিল রোগ থেকেও। তাই নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে আমাদের পরিপূর্ণ সুস্থ থাকা ও প্রাণবন্ত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হবে বলে বক্তারা অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন।
সম্মাননা অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সনদপত্র, বিশেষ আইডি কার্ড, সম্মাননা ক্রেস্ট ও মেডেল প্রদান করা হয়।
সূত্র : বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম