Home / কৃষি / ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্যায় প্লাবিত ৩০০০ বিঘা ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত হাজার কৃষক
6 5 2026 111

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্যায় প্লাবিত ৩০০০ বিঘা ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত হাজার কৃষক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৩ হাজার বিঘা বোরো ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে সেখানকার অন্তত ১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে নাসিরনগর উপজেলায়। উচ্চতা বাড়তে থাকা পানির সঙ্গে লড়াই করে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছেন ওই উপজেলার কৃষকরা।

কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের পর হাওরগুলোর পানি হঠাৎ বেড়ে যায়। ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলের ধানক্ষেতগুলো তলিয়ে যায়। নাসিরনগরের মেদির হাওরসহ অন্যান্য জলাভূমিতে এক রাতের মধ্যেই পানির নিচে চলে যায় পাকা ধান।

মঙ্গলবার ভোর থেকেই কৃষকরা মাঠে ছুটে গিয়ে যতটুকু সম্ভব ফসল কাটার চেষ্টা করেন। ছবি: মাসুক হৃদয়/ স্টার

আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, আবহাওয়া পরিষ্কার থাকায় ভোর থেকেই কৃষকরা মাঠে গিয়ে যতটুকু সম্ভব ফসল কাটার চেষ্টা করছেন।

সরকারি হিসাবে, প্রায় ৩৭২ হেক্টর বা প্রায় ৩ হাজার বিঘা বোরো ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের মতে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান শাকিল জানান, ‘এ মৌসুমে নাসিরনগরে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। পানির আগমনের আগে প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে, তবে বাকি অংশ এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’

‘বর্তমানে প্রায় ৩০৫ হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে, এতে ১ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন,’ ডেইলি স্টারকে বলেন তিনি।

অনেককে কোমর থেকে বুকসমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে দেখা গেছে। ছবি: মাসুক হৃদয়/ স্টার

এ কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হয়েছে, আপাতত পানি স্থিতিশীল থাকলেও ইতোমধ্যে তলিয়ে যাওয়া জমি থেকে ফসল উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম।

চলতি মৌসুমে ২৫ বিঘা জমি চাষে প্রায় ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন নাসিরনগরের গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের কৃষক নাসির মিয়া।

‘এখন ৭-৮ বিঘা জমি পুরোপুরি পানির নিচে। পানি গলা পর্যন্ত, তাই ধান কাটার কোনো উপায় নেই। পানি নামতে নামতে সব নষ্ট হয়ে যাবে,’ বলেন তিনি।

একই গ্রামের আরেক কৃষক ফজর আলীর ৯ বিঘা জমির মধ্যে ৪ বিঘা পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘জমি চাষের জন্য ঋণ নিয়েছিলাম। এখন ফসল কাটতেই পারছি না। কীভাবে ঋণ শোধ করব, পরিবার চালাব—সেই চিন্তায় আছি।’

শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটার কাজ আরও ধীরগতির হয়েছে। ছবি: মাসুক হৃদয়/ স্টার

অধিকাংশ কৃষক উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে চাষ করায় ক্ষতির প্রভাব আরও মারাত্মক হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মোস্তফা ইমরান হোসেন জানান, ‘নাসিরনগরের কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বোরো ধানের পাশাপাশি প্রায় ১০০ হেক্টর আউশের বীজতলা, ভুট্টা, তিল ও সবজিরও ক্ষতি হয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাদের সরকারি প্রণোদনা, ত্রাণ সহায়তা ও ধান সংগ্রহ কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

সূত্র : ডেইলি স্টার বাংলা

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

3 5 26 22

দেশে হাম ও উপসর্গে আরো ১০ শিশুর মৃত্যু

ঢাকা, রবিবার ০৩ মে ২০২৬ মাসস গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরো …