মাস্টারি বিডি | শান্তা ইসলাম
ফিচার | ঢাকা | ২৫ জুলাই ২০১৯ | ১০ শ্রাবণ ১৪২৬
কেয়া বা কেতকী। ইংরেজিতে একে বলা হয় Thatch Screwpine.। Hawaiian এ Hala., স্প্যানিশ ভাষায়: Bacua. আর ফরাসি ভাষায়: Vacquois বলে।
এর বৈজ্ঞানিক নাম: Pandanus tectorius.। এটি মুলত মালয়েশিয়া, পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় উদ্ভিদ। সংস্কৃততে এটাকে বলে কেতকী।

কেয়া গুল্মজাতীয় একটি সুগন্ধি উদ্ভিদ। বাংলায় বিরিয়ানী রান্না কেওড়ার জল ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না। এই ফুল থেকেই বাস্পীভবন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় কেওড়ার জল।
কেয়া বর্ষা ঋতুর ফুল। আষাঢ় ও শ্রাবণে সাদা ও সুগন্ধিযুক্ত ফুল ফোটে। স্ত্রী পুষ্পগুলো পুংপুষ্পের তুলনায় আকারে ছোট হলেও সুগন্ধ বেশি। ফুলে মধু না থাকলে কী হবে ভ্রমর কিন্তু ঠিকই বসে। প্রাচীনকাল থেকেই কেয়া ফুলের সুগন্ধ এবং ভেষজ গুণের কথা সুবিদিত। দ্বাদশ শতাব্দীর কবি জয়দেব কেয়া ফুলের আকার-আকৃতি নিয়েও গান রচনা করেছেন। বিভিন্ন সাহিত্যে লিপিবদ্ধ আছে কেয়ার কথা।

কেয়া মূলত মালয়েশিয়া, পূর্ব অস্ট্রেলিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় উদ্ভিদ হলেও বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, জাপান প্রভৃতি দেশে প্রচুর জন্মে। বাংলাদেশের সমতলভূমি ছাড়াও সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন ও কুয়াকাটায় অসংখ্য কেয়া গাছ দেখা যায়। গাছগুলো পরস্পরের সঙ্গে জড়াজড়ি করে দুর্গম পরিবেশ তৈরি করে। জীবাণুনাশক হিসেবে এর ভূমিকা রয়েছে। হৃৎপিণ্ড ও যকৃতের জন্য উপকারী। বিষাক্ত পোকার কামড়ে, নিদ্রাহীনতায়, খুসকিতে কেয়া উপকারী। ব্রণ, কুষ্ঠ, ডায়াবেটিস রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে কেয়া পাতার রস ।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম