মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬ । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
‘টেকসই ‘ভবিষ্যত গড়ি, ১৭ লক্ষ্য অর্জন করি’-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ ৩ ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে, ২৫তম আন্তর্জাতিক এবং ১৮তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এ প্রতিপাদ্য যেমন এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে, তেমনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব নির্মাণে ভূমিকা রাখবে বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উন্নয়নের মূল ধারায় প্রতিবন্ধীদের একীভূতকরণ এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দেশব্যাপী বিস্তারিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের সমাজের বোঝা হিসেবে না ভেবে নানা কর্মমুখী কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের যে সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে মর্মে বানী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সতত প্রতিবন্ধীবান্ধব।
বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ লাখেরও অধিক বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী আছে বলে জানা যায়। তারা কেউ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, কেউ শারিরীক প্রতিবন্ধী, কেউ মানসিক প্রতিবন্ধী। কেউ মিশ্র প্রতিবন্ধী।
প্রতিবন্ধী হচ্ছে, জন্ম থেকে কোনো ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিগত, স্বাভাবিক বিকাশগত বা ইন্দ্রিয়গত ক্ষতিগ্রস্ততা এবং ওই ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত ও পরিবেশগত বাধা সৃষ্টি অথবা জন্মপরবর্তী বিভিন্ন দুর্ঘটনাজণিত কোনো কারণে পঙ্গুত্ব বরণ । প্রতিবন্ধীদেরও যে আর দশজন মানুষের মতো বিশেষ কোনো প্রতিভা আছে তা আমরা অনেকেই জানি না। সমাজ বা আমরা তাদের আলাদা চোখে দেখি বলে তারা তাদের প্রতিভা প্রকাশ করার কোনো সুযোগ পায় না। আমরা রাস্তাঘাটে কোনো প্রতিবন্ধীকে দেখলে তাদের দিকে এমনভাবে তাকাই বা তাদের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলি যেন তারা কোনো মানুষ না। তাদের দিকে আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে তাকিয়ে থাকি আর মনে মনে অবহেলা পোষণ করি। প্রতিবন্ধীদের জন্য পাড়া-প্রতিবেশী, সামাজিক সংস্থার সহযোগিতা অনেক অনেক বেশি প্রয়োজন। তাহলে তারাও তাদের প্রতিভা বিকশিত করতে পারবে। আর এখন সারা দেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নানা রকম প্রতিবন্ধী স্কুল গড়ে উঠেছে। এসব স্কুল তাদের লুপ্ত প্রতিভা প্রকাশ করতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। বেসরকারি স্কুলগুলোর পাশাপাশি সরকারিভাবে ৫৬টি স্কুল রয়েছে। আর এসব স্কুল থেকে তারা শুধু এ দেশেই নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে খেলাধুলা করে জয় করে নিয়ে এসেছেন স্বর্ণপদক। যার জন্য সারা বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। আর এ অর্জন একজন ভালো, সুস্থ মানুষেরও করা সম্ভব নয়। আর এজন্যই প্রতিবন্ধীরা আমাদের দেশ ও জাতির জন্য গর্ব।
প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো তাদের প্রতি সহানুভূতির অভাব। তারাও যে মানুষ এ বোধ আমাদের অনেকের মধ্যে থাকে না। যে পরিবারে একজন প্রতিবন্ধী সদস্য আছে আমাদের শিক্ষিত জাতির উচিত সেই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। আমরা সমাজের অধিকাংশ লোক এটা ভুলে যাই, তাদেরও মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার রয়েছে। আমরা সব সময় তাদের হেয় চোখে দেখি। সমাজে তাদের আলাদা শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে গণ্য করি। আমাদের সমাজে অনেকাংশে প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে সচেতনতার অভাব রয়েছে। সমাজে আবার কিছু দয়াবান লোক আছেন যারা প্রতিবন্ধীদের দয়া করে কিন্তু প্রতিবন্ধীদের ভালোবাসেন না। আমাদের সবার উচিত প্রতিবন্ধীদের অবহেলা না করে তাদের জন্য ইতিবাচক কিছু করা। প্রতিবন্ধিদের কাছে কখনও যেনো মনে না হয় তাঁরা নয় বরং আমরাই মনের প্রতিবন্ধিত্বে ভুগছি।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম