Home / প্রকৃতি / টাংগুয়া হাওর অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হচ্ছে না…
tanguarhaortourismmbd-4

টাংগুয়া হাওর অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হচ্ছে না…

মাস্টারি বিডি ডটকম ।
সুনামগঞ্জ । ০৯ জানুয়ারি ২০১৮ । ২৬ পৌষ ১৪২৪

দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাংগুয়া হাওরে প্রতি বছর এ সময় সুদূর সাইবেরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অতিথি পাখি আসে। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে গোটা হাওড় এলাকা। কিন্তু এ বছর পাখির আগমন কম ঘটেছে। তাই পাখিপ্রেমি পর্যটকরা হতাশ।

এ সময়ে টাংগুয়া হাওরে লেনজা হাঁস, পিং হাঁস, বালি হাঁস, সরালি কাইম, গংগা কবুতর, কালাকূড়া, পিয়ারিসহ বিভিন্ন রঙ্গের অতিথি পাখি যা এসেছে, তা আবার শিকার করার পাঁয়তারা করছে এক শ্রেনীর অসাধু চক্র।

পাখি বিশেষজ্ঞ ও এলাকাবাসী মনে করছেন, পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত টাংগুয়া হাওরে পাখির আবাসস্থল তৈরি করতে কার্যকরী কোন উদ্যোগ নিতে না পারায় বিশাল এই হাওর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে অতিথি পাখিরা।

bird-sightings-house-sparrow-fledgling-2

জানা যায়, ১৯৯৯ সালে টাংগুয়া হাওরকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি ইরানের এক সম্মেলনে এ হাওরকে রামসার এলাকাভূক্ত করা হয়। ২০০৩ সালের নভেম্বর থেকে ইজারা প্রথা বাতিল করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় হাওরের জীব বৈচিত্র্য রক্ষা ও রামসার নীতি বাস্তবায়ন লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু গত ১৮ বছরেও টাংগুয়া হাওরে কোন উন্নয়ন হয়নি বরং যত দিন যাচ্ছে ততই হাওরের অবস্থা খারাপ হচ্ছে।

পাখি বিজ্ঞানী ও আইইউসিএনের তথ্য মতে, টাংগুয়া হাওরে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ২১৯ প্রজাতির পাখি ছিল। পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় প্যালাসিস ঈগল পাখিও আছে এ হাওরে। কালেম, পানকৌড়ি, ভূতিহাঁস, পিয়ংহাঁস, খয়রাবগা, লেঞ্জাহাঁস, নেউপিপি, সরালি, রাজসরালি, চখাচখি, পাতি মাছরাঙা, পাকড়া মাছরাঙা, মরিচা ভূতিহাঁস, সাধারণ ভূতিহাঁস, শোভেলার, লালশির, নীলশির, পাতিহাঁস, ডাহুক, বেগুনি কালেম, গাঙচিল, শঙ্খচিল, বালিহাঁস, ডুবুরি, বক, সারসসহ তখনকার হিসেবে মতে প্রায় ২১৯ প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি থাকার কথা। কিন্তু ২০১১ সালের আইইউসিএনের অপর এক জরিপে টাংগুয়ার হাওরে ৬৪ হাজার পাখির অস্তিত্ব দেখানো হয়েছে। এতে ৮৬ জাতের দেশীয় এবং ৮৩ জাতের বিদেশি পাখির কথা উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা থেকে টাংগুয়া হাওর দেখতে আসা মনিরুজ্জামান ও শাহিন নামের দুইজন পর্যটক জানান, গত কয়েক বছর আগে টাংগুয়া হাওরে যে পরিমাণ অতিথি পাখি দেখা গেছে বর্তমানে তা আর দেখা যাচ্ছে না।

টাংগুয়া হাওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমিন সরকার জানান, এ বছর অতিথি পাখি একটু কম মনে হচ্ছে। তবে শীত যত ঘনিয়ে আসবে ততই পাখি সংখ্যা বাড়বে। তিনি বলেন, অসাধু চক্র যাতে হাওরে পাখি শিকার করতে না পারে সে জন্য পুলিশ, আনসার সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। বাসস

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

13 4 2026 1222

শিশু টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

ঢাকা, সোমবার ১৩ এপ্রিল ২০২৬মাসস হাম ও অন্যান্য রোগের শিশুদের টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অর্থ আত্মসাৎ, …

Leave a Reply

Your email address will not be published.