অর্থনৈতিক সংকটে মরক্কোয় পশু কোরবানি স্থগিত, হবে প্রতীকী কোরবানি
Mastary Sangbad
জুন ৬, ২০২৫
অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক, ধর্ম, প্রচ্ছদ, ব্যানার, ব্রেকিং নিউজ
279 Views
ঢাকা, শুক্রবার ০৬ জুন ২০২৫ মাসস
ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ বছর মরক্কোয় পশু কোরবানি হবে না। রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের নির্দেশে দেশটির সরকার দেশব্যাপী পশুর বাজার বন্ধ রেখেছে এবং ঐতিহ্যবাহী কোরবানি স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণ দেশটির দীর্ঘমেয়াদী খরা ও অর্থনৈতিক সংকট। ফলে পশু পালন কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০১৬ সাল থেকে দেশের পশুর সংখ্যা কমে ৩৮% সে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, পশুখাদ্যের দামও ৫০% বেড়ে গেছে।রাজা মোহাম্মদ তাঁর বার্তায় বলেন, এই কঠিন সময়ে কোরবানির মতো ব্যয়বহুল রীতি অনেক মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে। তিনি জানান, ঈদের আধ্যাত্মিক দিক বজায় রাখতে তিনি সমগ্র দেশের পক্ষ থেকে প্রতীকী কোরবানি করবেন।
সরকারি নির্দেশে দেশের সব সরকারি ও মৌসুমী পশুর বাজার বন্ধ রাখা হচ্ছে। কিছু এলাকায় অবৈধ পশু বিক্রি বন্ধে অভিযান চলছে। যদিও বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পশু জব্দের অভিযোগের প্রমাণ এখনো মেলেনি।কোরবানি বাতিল হওয়ায় কৃষক ও পশু ব্যবসায়ীরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অনেকে আগে থেকেই পশু কিনে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এই খাতে চাপে থাকা ক্ষুদ্র কৃষকদের সাহায্যে সরকার ৬২০ মিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন কর্মসূচি চালু করেছে। এ ছাড়াও ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত স্ত্রী ভেড়া ও ছাগল জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে প্রজনন বন্ধ না হয়। মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ লাখ ভেড়া আমদানির চুক্তি করেছে মরক্কো সরকার।দেশটির অনেকে রাজার সিদ্ধান্তকে সহানুভূতিপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত বলে সমর্থন জানিয়েছেন।
ইসলামী পণ্ডিতরাও বলেছেন, শাসকের অধিকার আছে এমন কঠিন সময়ে ধর্মীয় বিধান স্থগিত করার। তবে কিছু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় হতাশা প্রকাশ করে বলছেন, কোরবানি ছাড়া ঈদুল আজহা অপূর্ণ।
জনসাধারণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
কেউ কেউ এই সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় রীতিনীতিতে সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকটের প্রেক্ষাপটে এটাকে কার্যকর পদক্ষেপ বলছেন।ইসলামে নবী ইব্রাহিমের আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠা ও ত্যাগের স্মরণে ঈদুল আজহার সময় কোরবানি গুরুত্বপূর্ণ। তবে মরক্কোর এই পদক্ষেপ ধর্মীয় রীতিনীতিতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার সরকারের আছে কিনা তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংকট ও আমদানির উপর নির্ভরতা
খরা ও গবাদি পশুর ঘাটতির কারণে মরক্কোয় মাংসের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে অনেক পরিবারের জন্য কোরবানির জন্য পশু কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।সরকার মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ লাখ ভেড়া আমদানির জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং গরু, ভেড়া ও উটের উপর থেকে আমদানি শুল্ক এবং ভ্যাট প্রত্যাহার করেছে। তবে এই পদক্ষেপ দেশটির কোরবানির যে ঐতিহ্য তা পূরণ হয়নি।
সূত্র : দ্য হালাল টাইমস
২০২৫-০৬-০৬