দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার ছয় সপ্তাহ বাদে মার্কিন পার্লামেন্টের দুই কক্ষের সামনে ভাষণ দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। দীর্ঘ ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার বক্তৃতায় উঠে এসেছে ‘আমেরিকা ফাস্ট নীতি’।
ক্ষমতায় আসার পর তিনি কী কী পরিবর্তন করেছেন এবং কেন করেছেন তা স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধে মার্কিন রপ্তানিকারকরা বিশেষভাবে ক্ষতির শিকার হবে, বিশেষ, রাজনৈতিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খামারিরা। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্ক আরোপে সামান্য হবে সামান্য।
মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সামনে দীর্ঘ এক বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘তার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল যুগ’। মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটে ভাষণের সময় দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন ‘চার বছর বা আট বছরে বেশিরভাগ প্রশাসনের তুলনায় ৪৩ দিনে আরো বেশি কিছু অর্জন করেছে’।
তিনি আরো বলেন, ‘আর আমরা সবেমাত্র শুরু করছি।’
তার বক্তব্য অনেক পরিচিত ইস্যু উঠে এসেছে। যেমন, অবৈধ অভিবাসীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়নের আহবান (যাদের তিনি অপরাধী ও ধর্ষক বলে আক্রমণ করেছেন), ট্রাম্পের শুল্কের প্রশংসা, ট্রাম্পের মতে, এই শুল্ক মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কে ভারসাম্য আনবে এবং ট্রান্সজেন্ডার ও বৈচিত্র্যমূলক উদ্যোগের ওপর আক্রমণ।
ইলন মাস্ককে পাশে নিয়ে ট্রাম্প কেন্দ্রীয় সরকারের আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন। ইতোমধ্যে হাজারো কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন। বেশ কিছু সংস্থার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিদেশে ত্রাণ পাঠানোর উদ্যোগও বন্ধ রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘অনির্বাচিত আমলাদের দেশ শাসনের দিন শেষ’।
ভাষণে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইলন মাস্কের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। কেন্দ্রীয় সরকারের আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইলন মাস্কের বিতর্কিত আগ্রাসনের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘তার প্রশাসন মাত্র কাজ শুরু করেছে’।
ট্রাম্পের দাবি, তার পূর্বসূরি জো বাইডেন দেশকে ‘অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের’ মধ্যে রেখে গেছেন এবং তিনি এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প বাইডেনকে মার্কিন বাজারে ডিমের মূল্যবৃদ্ধির জন্যও দোষারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘এটা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ এবং তিনি দাম কমাতে ‘কঠোরভাবে কাজ’ করছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ডিমের দাম এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আমেরিকাকে আবার সাশ্রয়ী করে তুলব। আমার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো আমাদের অর্থনীতি উদ্ধার করা এবং কর্মরত পরিবারের জন্য সাহায্য প্রদান করা।’
খনিজ সম্পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ সপ্তাহে, আমি ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং দুর্লভ ধাতু উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেব।’
ট্রাম্প বলেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘বাক স্বাধীনতা’ পুনরুদ্ধার করেছেন। তিনি আরো বলেন, তার একটি আদেশ জারির মাধ্যমে ‘পুরুষদের খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছেন’ এবং ‘এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, মানব প্রজাতির দুটি লিঙ্গ, পুরুষ এবং নারী। এই দুটি ছাড়া আর কিছু নেই।’
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর পাল্টা বক্তব্য রাখার সুযোগ পায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। সিনেটের এলিসা স্লটকিন মধ্যবিত্ত আমেরিকানদের উদ্দেশে একটি বক্তব্য রাখেন।
তিনি উল্লেখ করেন, অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে ট্রাম্প ও মাস্ক ‘বেপরোয়া’ আচরণ করছেন এবং বিদেশে ‘আমেরিকান নেতৃত্বের’ বিষয়টি তারা পুরোপুরি উপেক্ষা করছেন।
ট্রাম্পের বক্তৃতার কড়া সমালোচনা করে ডেমোক্র্যাট নেত্রী সেনেটর এলিসা স্লটকিন বলেন, ট্রাম্প যে অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা বলছেন, তাতে লাভ হবে কেবলমাত্র ধনীদের। ছোট ব্যবসা ইতিমধ্যেই মার খেতে শুরু করেছে। চাষীরাও সমস্যায় পড়তে শুরু করেছেন বলে দাবি এলিসার।
এলিসার অভিযোগ, ট্রাম্প আদালত, সংবিধান কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না। জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বিতর্কেরও তুমুল সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেত্রী। তার বক্তব্য, ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে যা করেছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রিপাবলিকানরা অবশ্য ট্রাম্পের বক্তৃতার গুণগান করেছেন। তারা জানিয়েছেন, রেকর্ড সময় ধরে ট্রাম্পের এই বক্তৃতা অ্যামেরিকাকে নতুন পথ দেখাতে সাহায্য করেছে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম