মাস্টারি বিডি ডটকম
হারুন-অর-রশীদ । ফরিদপুর । ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ । ০৪ আশ্বিন ১৪২৪
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার আবহমান কালের ঐতিহ্যের নৌকাবাইচ।
রবিবার বিকালে ভাঙ্গার কুমার নদে অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর থেকে অর্ধশত বাইচের নৌকা অংশ নেয়। ফরিদপুরের নৌকাবাইচ উদযাপন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচ উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি নিলুফার জাফরউল্লাহ।

ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতি বছর এইদিনে জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কুমার নদে প্রায় দুইশত বছর ধরে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে। নানা জটিলতায় মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের প্রচেষ্টায় আবার নৌকা বাইচটি চালু হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর জাকজমকপূর্ণভাবে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দু’পাশে হাজার হাজার দোকানি নানা পশরা সাজিয়ে বসে। তাদের বেচাকেনাও ভালো হয়।
এদিকে, ভাঙ্গায় এ নৌকা বাইচ দেখতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ লাখ দর্শনার্থী সমবেত হয়। দর্শনার্থীরা নৌকাবাইচ দেখে বাড়ি ফেরার পথে তাদের বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যায়।
বাইচ শেষে থানা চত্বরে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হয়। এতে তিন ক্যাটাগরিতে ৯ জনকে ১ম, ২য় ও ৩য় পুরস্কার দেওয়া হয়। ছোট নৌকায় ১ম ভাঙ্গা কোর্টপাড়ের সাইফুল আলম সোহাগ, ২য় গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারীর বাহাড়া সবুজ সংঘ, ৩য় ভাঙ্গার বালিয়া গ্রামের আলমগীর হোসেন।
মাঝারী নৌকায় ১ম ভাঙ্গার বড়দিয়ার মান্নান মাতুব্বর, ২য় রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি গ্রামের অমূল্য ভক্ত, ৩য় মুকসুদপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের আঃ রব।
বড় নৌকায় ১ম পুরস্কার পায় ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের বাবু মাতুব্বর, ২য় ভাঙ্গা পৌরসভার নূরপুরের জাকারিয়া মাতুব্বর, ৩য় ভাঙ্গার তুজারপুরের সিরাজ মাতুব্বর। এদের সকলকে এলইডি টেলিভিশন উপহার দেওয়া হয়।

কয়েকেজন দর্শনার্থী বলেন, ‘নৌকা বাইচ দেখ তারা খুব মজা করছে, নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিথিরাও এসেছে। তারা দেখছে নৌকাবাইচ আর উপভোগ করছে বাইচকে কেন্দ্র করে জমজমাট মেলা। মেলা থেকে তারা বাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় ও বাহারি জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছে।’
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ও সংরক্ষিত আসনের এমপি নিলুফার জাফরউল্লাহ বলেন, ‘বিগত দুই শ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নৌকাবাইচ। গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্যটি প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে পালন করা হবে।’

নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান কাফিসহ জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের নৌকাবাইচ প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হোক – এটাই জেলার সাধারণ মানুষ আশা করছে। এতে করে দেশের প্রায় হারিয়ে যাওয়া এ ঐতিহ্যটি ফিরে আসবে তার আপন মহিমায়। আর নৌকাবাইচের মধ্যদিয়ে আনন্দ পাবে দেশের সাধারণ মানুষ।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম