ঢাকা, শনিবার ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ মাসস
মাছ, মাংস, দুধ, ডিমসহ আমিষ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জায়গা করে নেওয়া সত্ত্বেও দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। এই সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। জাতিসংঘ বলছে, বাংলাদেশের অন্তত ১০ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। সে হিসাবে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৮ কোটি ধরা হলে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ।
ওই প্রতিবেদনে ২০০৪ থেকে ২০০৬ এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অপুষ্টির শিকার মানুষের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দেখা গেছে, ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালে বাংলাদেশে অপুষ্টির শিকার মানুষের হার ছিল মোট জনসংখ্যার ১৫ দশমিক ১ শতাংশ। এটি ২০২২ থেকে ২০২৪ সালে এসে হয় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। এখন ভারতের মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ অপুষ্টির শিকার, পাকিস্তানে ১৬ দশমিক ৫ আর আফগানিস্তানে ২৮ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপালে অপুষ্টির শিকার দেশটির মোট জনসংখ্যার ৫ দশমিক ৩ এবং শ্রীলঙ্কায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
প্রতিবেদন বলা হয়, বাংলাদেশে সুষম খাদ্যের জন্য ক্রয়ক্ষমতার সক্ষমতা অনুসারে জনপ্রতি ব্যয় ৪ দশমিক ৪৯ ডলার। আগের বছর এটি ছিল ৪ দশমিক ৩৩ ডলার। দক্ষিণ এশিয়ায় এ হার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এক্ষেত্রে শীর্ষে আছে ভুটান। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সূষম খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে থাকায় এটাতে ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও দেশের দুই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদন্ড অনুযায়ী, সুষম খাদ্য গ্রহণের খরচ বলতে বোঝানো হয় একজন ব্যক্তির দৈনিক ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তির চাহিদা পূরণ করে এমন খাদ্যের জন্য স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য এবং সবচেয়ে সাশ্রয়ী খাবার কেনার ব্যয়ের সক্ষমতা।
এতে আরো বলা হয়, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে অপুষ্টিজনিত ওজন কম থাকার হার বাংলাদেশে ১০ শতাংশ। ভারতে এ হার ১৮ এবং পাকিস্তানে ৭। বাংলাদেশে এ বয়সী শিশুদের মধ্যে খর্বকায় অন্তত ২৫ শতাংশ। ভারত ও পাকিস্তানে যথাক্রমে তা ৩৩ ও প্রায় ৩৭ শতাংশ। বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে খাদ্য উৎপাদন এবং মাথাপিছু আয় বেড়েছে। কিন্তু তারপরও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও’র “দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২২” প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্ত জলাশয় বা স্বাদুপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের মাছের দাম বৃদ্ধি পাওয়া এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রতিদিনেরে খাদ্য তালিকায় মাছ গ্রহণের মাত্রা কমেছে। একইভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএউচও) মনে করে প্রতি ব্যক্তির জন্য দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার দুধ গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে প্রকৃত গ্রহণ সে হিসেবের চেয়ে অনেক কম। গৃহস্থালী আয় ও ব্যয় সমীক্ষা (এইচআইইএস) ২০২২ অনুসারে, দেশে দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের গড় মাথাপিছু দৈনিক ভোগ মাত্র ৩৪.১ গ্রাম।
এছাড়া মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ৪০টি দেশের মধ্যে নেই। তবে গরু, ছাগল, হাস-মুরহিসহ গবাদিপশু উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১২তম এবং সামগ্রিকভাবে মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে একটি। তবুও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
সৌজন্যে : কালের কণ্ঠ
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম