মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ঢাকা। ২৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ১৬ মাঘ ১৪২৩
নির্ঘুম রাত, হিম-ঘাম, আর বিরামহীন দুঃস্বপ্ন। না, গর্ভধারণের বিষয় এটা নয়- এ এক আবেগঘন যন্ত্রণা। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাউস অব কমন্সের অসংখ্য ভোট। হয়তো আমি একটু বেশি অকপট আর সাদাসিধে। এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে, আমি জানতাম, কঠিন সিদ্ধান্ত আমাকেও নিতে হবে। হতে পারে তা নীতিগত আপসরফা, কিংবা তহবিল কাটছাঁট করার বিষয়- যা কখনও সবাইকে তুষ্ট করতে পারবে না। তবে আমি তখন বুঝতে পারিনি আসলে তা কতটা আবেগপূর্ণ হতে পারে।
আমি প্রতিবারই যখন ভোট দিয়েছি, আমার আসনের মানুষের চিন্তা মাথায় রেখেই দিয়েছি। স্থানীয় সমস্যার সমাধান খোঁজা থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ভোটদান পর্যন্ত- আমি কখনও স্থানীয় নাগরিকদের কথা ভুলে যাইনি, যারা আমাকে ওয়েস্টমিনস্টারে পাঠিয়েছেন। আর্টিকেল ফিফটি সক্রিয় করার লক্ষ্যে সামনের দিনে যে ভোট আসছে, তা আমাকে ভীষণভাবে সেই দায়িত্বের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমি কোনোভাবেই ছায়ামন্ত্রী হিসেবে আমার দায়দায়িত্ব আর সামনের ভোটের মাঝে কোনো ধরনের আপসরফা চাইনি। তবে লেবার নেতৃত্বের থ্রি-লাইন হুইপ (বা জরুরি নির্দেশ) এবার আমার হাত থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সেই সুযোগটাই কেড়ে নিয়েছে। লেবার পার্টির শিশু শিক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন আমার কাছে বরাবরই উৎসাহ-অনুপ্রেরণার বিষয়। এ খাতে সরকারের অত্যধিক তহবিল স্বল্পতার বিরুদ্ধে আমি লড়াই করেছি। সংগ্রাম চালিয়েছি যাতে শত শত নার্সারি স্কুল বন্ধ না হয়ে যায়। বিনামূল্যে শিশু স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগের ভুলত্রুটি সামনে আনার চেষ্টার ত্রুটি করিনি। দেখিয়ে দিয়েছি, যেসব পরিবারের এই সহযোগিতা দরকার, তাদের অর্ধেকের কাছেও এ সুবিধা পেঁৗছাচ্ছে না।
আমার এই ভূমিকা থেকে আমি সরে দাঁড়াতে চাইনি। কিন্তু আমি কোনোভাবেই আর্টিকেল ফিফটি সক্রিয় করতে চাই না। কারণ সরকারের এই ‘পরিকল্পনা’ পার্লামেন্টে আমার আসনটির জন্য যারা ভোট দিয়েছেন তাদের ঘোষিত দাবিগুলোকে যেমন পদদলিত করবে, তেমনি আমি যতটা গভীরভাবে জানি, তাদের স্বার্থকেও তা অস্বীকার করবে। আমি আমার পদত্যাগপত্রে স্পষ্ট করেছি, হ্যাম্পস্ট্যাড অ্যান্ড কিলবার্নে আমি ওয়েস্টমিনস্টারের প্রতিনিধিত্ব করি না। ওয়েস্টমিনস্টারে আমি হ্যাম্পস্ট্যাড অ্যান্ড কিলবার্নের প্রতিনিধিত্ব করি মাত্র। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়লে আমার আসনের নাগরিকরা বিপুল অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। আমি এ সত্য কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারি না।
আমার আসনের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও ব্রেক্সিটের পর তাদের আবাসিক অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা পাননি। তাহলে কীভাবে আমি এর পক্ষে ভোট দেব? আমাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বিশাল প্রশ্ন রয়ে গেছে। ব্রেক্সিটের প্রক্রিয়া শুরু হলে দেশের সন্ত্রাসবাদবিরোধী উদ্যোগও উপেক্ষিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে লন্ডন আসনের একজন এমপি হিসেবে এর পক্ষে ভোটের সুযোগ কি আমার আদৌ আছে?
এমনি এই প্রস্তাবিত বিল ইউরোপের একক বাজারের সুবিধাও নিশ্চিত করেনি। এ বিষয়টি অসংখ্য নাগরিকের জীবনজীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই তাদের একজন এমপি হিসেবে সুবিবেচনার পরিচয় দিতে হলে এসব জরুরি ইস্যুর কোনো সুরাহা ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে আমি ভোট দিতে পারি না।
আলোচনার জন্য উত্থাপন করা সংশোধনী বিল আমি সতর্কভাবেই পর্যবেক্ষণ করব। এ ক্ষেত্রে প্রস্তাবটির যোগ্যতাকেই শুধু বিবেচনা করব। সে অনুযায়ী হাউসে চেষ্টা করব আমার ও আমার আসনের জনগণের উদ্বেগ নিরসনের। আমি ব্রেক্সিট বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী কিয়ের স্টারমিয়ের এবং লেবার সহকর্মীদের সমর্থন করি। আমি জানি এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে ব্রিটেনের জন্য সরকার যেন একটি সেরা সমাধান খুঁজে পায়- তারা সবাই সেই চেষ্টাই করছেন। আমি এও বলতে চাই, এই প্রক্রিয়া সবচেয়ে জটিল এক সাংবিধানিক প্রশ্ন। এ দেশ এর আগে এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। এ ইস্যুটি পারিবারিক জীবন, পথঘাট এবং ব্রিটিশ রাজনীতির নতুন পথ ধরে চলা বিভিন্ন আসনে গভীর বিভক্তির সৃষ্টি করেছে। এমনকি আমার অনেক সহকর্মীর আসনগুলোতে বিভক্তি আমার আসনের চেয়েও অনেক গভীর। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি, তাদের পক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
ছায়ামন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ এবং পেছন থেকে তেরেসা মের কঠোর ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া_ এর মধ্য দিয়ে আমার বিশ্বাস, জনগণের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে- আমার জনগণের।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপে ভাষান্তর – রথো রাফি।
সূত্রঃ সমকাল
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম