ঢাকা, বুধবার ০২ জুলাই ২০২৫ মাসস
রেফারির শেষ বাঁশি। বাংলাদেশের ফুটবলার, কোচিং স্টাফের উল্লাস। স্বাগতিক মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় নারী এশিয়ান কাপের আসরে খেলা এখন বাংলাদেশের জন্য সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলেছিল। নারী ফুটবলে কখনো এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে খেলা হয়নি।
এএফসি নারী এশিয়ান কাপে কখনো খেলতে পারিনি বাংলাদেশ। এবার সেই সুযোগ প্রায় কাছাকাছি। ইতিহাস গড়ে মায়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবার মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাওয়ার পথে বাংলাদেশের মেয়েরা।
আজ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক মায়ানমারকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
তবে ১৮ মিনিটে ঠিকই আনন্দ উৎসব করে বাংলাদেশ। উপলক্ষ্যটা এনে দেন ঋতুপর্ণা চাকমা। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের খুব কাছে বাংলাদেশ ফ্রি কিক পেলে শট নেন এই ফরোয়ার্ড। তবে তার মানব দেয়ালে বাধা পায়। তবে ফিরতি সুযোগ আসলে দারুণ এক বাঁকানো শটে বলকে জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড।
৩৬ মিনিটে গোল প্রায় শোধই দিয়েছিল মায়ানমার। তবে ফাঁকা গোলবারের বল জড়ালেও রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজালে মায়ানমারের সমতায় ফেরা হয়নি। ফিরতি মিনিটে আরেকবার ফাঁকা পোস্ট পেয়েছিল মায়ানমার। সুইপারের ভূমিকায় বল ক্লিয়ার করতে ডি বক্স ছেড়ে বেরিয়ে আসা রূপনা ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারলে ফাঁকা পোস্টেও বলকে জালে জড়াতে পারেননি অধিনায়ক খিন মো মো টুন।
৪১ মিনিটে সমতায় ফেরার সবচেয়ে ভালো সুযোগ পেয়েছিল মায়ানমার। তবে ভাগ্য তাদের সঙ্গে ছিল না। তা না হলে ইউপার খিনের ডান পায়ের বাঁকানো শট বারে লেগে ফিরে আসত না। অবশ্য ফিরতি সুযোগ পেয়েছিলেন নাউ হাতেত হাতেত ওয়াই। কিন্তু গোলরক্ষক রূপনাকে একা পেয়েও বারের ওপর দিয়ে মারেন। এতে এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতির পর ৫৮ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পায় মায়ানমার। সতীর্থর নেওয়া কর্নার থেকে দারুণ এক হেডও নিয়েছিলেন বদলি নামা মে হাতেত লু। গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফেরত আসলে দ্রুত বল তালুবন্দি করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক রূপনা।
৬৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণার নেওয়া ক্রস গোলেই রেখেছিলেন মনিকা চাকমা। বারে লাগায় কপাল চাপড়ান মনিকা। তবে ফিরতি মিনিটে ঠিকই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ঋতুপর্ণা। বাঁ পায়ের দারুণ এক চিপে। বাংলাদেশের ফুটবলে এমন অনিন্দ্য সুন্দর গোল খুব একটা দেখা যায় না।
বাংলাদেশকে তৃতীয় লিড এনে দেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন বদলি নামা মোসাম্মৎ সুলতানা। কেননা মায়ানমারের গোলরক্ষক বল ক্লিয়ার করতে ডি বক্স ছেড়ে বেরিয়ে আসায় ফাঁকা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশি ফরোয়ার্ডের নেওয়া শটটা অল্পের জন্য গোলে জড়ায়নি। অন্যদিকে ৭৭ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল মায়ানমার। রূপনার বীরত্বে অক্ষত থাকে বাংলাদেশের জাল। বদলি নামা মিয়াত নোয়ে খিন গোলরক্ষককে ড্রিবলিং করে বল জালে জড়াতে চাইলে দারুণ ক্ষিপ্রতায় ধরে ফেলেন রূপনা।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে এক গোল হজম করে বাংলাদেশ। ৮৯ মিনিটে ব্যবধান কমানো গোলটা করেন উইন উইন। পরে আর কোনো গোল না হলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আনন্দে দ্বিগবেদিক ছুটতে লাগেন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম