অর্থনীতি বড় হলেও ক্রমাগতভাবে কমছে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ। সবশেষ চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বছর ব্যবধানে কমেছে ৭১ শতাংশ। অথচ এলডিসি থেকে উত্তরণের যাত্রাপথে চলমান আছে বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে, বিনিয়োগ বাড়াতে দীর্ঘ মেয়াদি নীতি ঠিক করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা ও জ্বালানি সংকট দূর করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

গত কয়েক অর্থবছরের বিদেশি বিনিয়োগের তথ্য বলছে তা ক্রমান্বয়ে কমছে। সবশেষ চলতি অর্থবছরের দুই প্রান্তিক মিলিয়ে এর পরিমাণ ছিল ২১ কোটি ডলার। প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর এর পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ডলার, যা বছর ব্যবধানে ৭১ শতাংশ কম।
বিদেশি বিনিয়োগ কমে আসার পেছনে দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যবসা নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুনাফা ফেরত নিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে সামনে আনছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) নির্বাহী পরিচালক টি আই এম নুরুল কবির বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি আনপ্রেডিকটেবল পরিস্থিতিতে আছে। ব্যবসায়ীর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ব্যবসায় নামে। তবে দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যবসা নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা জটিলতায় পিছিয়ে পড়ছেন তারা।
এদিকে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা কিছুটা কমে এলেও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দূর না হলে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসবে না।
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অবকাঠামোগত বিষয়গুলোর দিকে নজর বাড়াতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যালেন্স অব পেমেন্টের রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দ্রুত গণতান্ত্রিক উত্তরণ করতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে দেশ-বিদেশি বিনিয়োগ হারানোর শঙ্কা আছে বলেও অভিমত তাদের।
সময়টিভি
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম