Home / প্রকৃতি / দুর্লভ পাখি শামখোল
shamuk+bhanga++bird+mbd

দুর্লভ পাখি শামখোল

shamuk+bhanga++bird+mbd-4

মাস্টারি বিডি । শাহানা পারভীন
ফিচার । ২১ এপ্রিল ২০১৯ । ০৮ বৈশাখ ১৪২৬

এশীয় শামখোল বা শামুকখোল বা শামুকভাঙ্গা বা শামকাইল হচ্ছে কিকোনিডি পরিবারের এনাসটোমাস গণের একটি বড় আকারের পাখি। এরা বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি। একসময় বাংলাদেশ থেকে এরা হারিয়ে যেতে বসেছিল। গত এক দশকের চেষ্টায় এরা বাংলাদেশে আবার আবাসিকের মর্যাদা লাভ করেছে।

shamuk+bhanga++bird+mbd-5

এশীয় শামখোল অনন্য খোলা ঠোঁট ও সাদা চোখের জলচর পাখি। প্রজননকালে প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহ একদম সাদা দেখায়; কাঁধ-ঢাকনি, ডানার প্রান্ত-পালক, মধ্য-পালক ও লেজ সবুজে-কালো। প্রজননকালে প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহ একদম সাদা দেখায়। কাঁধ-ঢাকনি, ডানার প্রান্ত-পালক, মধ্য পালক এর রঙ হাল্কা ছাইরঙ। লেজের অগ্রভাগ সবুজাভ কিন্তু বাকি অংশের রঙ কালো। ঠোঁট লম্বা ভারি এবং কালচে-লাল রঙের। দুই ঠোঁটের মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা জায়গা থাকে। এই ফাঁকের ভিতরে শামুক বা শামুক জাতীয় ঢুকিয়ে চাপ দিয়ে ভেঙে ফেলে ভিতরের জীবন্ত অংশটুকু খায়। এদের চোখের রঙ সাদাটে। কোনো কোনো পাখির চোখের রঙ হলদে-বাদামি হয়। চোখের চারদিকের চামড়া পালকহীন। পা বেশ লম্বা, পায়ের পাতার রঙ অনুজ্জ্বল মেটে। প্রজনন মৌসুম ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহ ধূসরাভ সাদা থাকে। এই সময় পা অনুজ্জ্বল পাটকেল বর্ণ ধারণ করে। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি একই রকম দেখায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহ ধোঁয়াটে-বাদামি। কাঁধ ঢাকনি কালচে বাদামি বর্ণের হয়। শাবকগুলোর পা অনুজ্জ্বল হয়। এদের দু’ঠোঁটের মাঝখানের ফাঁক কম বা অনুপস্থিত। একেবারে ছোট ছানার ঠোঁটে কোন ফাঁক থাকে না।

shamuk+bhanga++bird+mbd-7

এশীয় শামখোল হাওর, বিল, মিঠাপানির জলা, হ্রদ, ধানখেত, উপকূলীয় প্যারাবন ও নদীর পাড়ে বিচরণ করে; সচরাচর ছোট ছোট দলে থাকে; বড় কলোনিতে রাত্রিবাস ও প্রজনন করে। সচরাচর ছোট ঝাঁক বেঁধে থাকে। বড় একত্রে গাছে বা জলাশয়ের ধারে একত্রে দলবদ্ধভাবে থাকে। খাবারের অভাব না হলে এরা সাধারণত স্থান পরিবর্তন করে না। এরা ভোর বেলায় খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। অনেক সময় চক্রাকারে আকাশের উঁচুতে উঠে যায় এবং দল বেঁধে ঘুরতে থাকে। পানির ধারে কিংবা অগভীর পানিতে আহার খোঁজে এবং ভূমিতে ঠোঁট ঢুকিয়ে খাবার খায়। খাদ্যতালিকায় রয়েছে শামুক ও ঝিনুক, তাছাড়া ছোট স্তন্যপায়ি প্রাণি, ব্যাঙ ও কাঁকড়াও খায়। সচরাচর পানির নিচে শামুকের খোলক ভেঙে এরা পানির উপর মাথা তুলে শামুকের মাংস গিলে খায়। জুলাই-এপ্রিল মাসে প্রজননকালে পানকৌড়ি ও বগার মিশ্র কলোনিতে ডালপালা দিয়ে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে। স্থানভেদে প্রজনন ঋতুতে বিভিন্নতা দেখা যায়। প্রজনন কালে এরা গোঙানির মত শব্দ করে ডাকে ও ঠোঁটে ঠক্ ঠক্ করে শব্দ তোলে।

shamuk+bhanga++bird+mbd-2

শামখোল পাখি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহি, সিলেট ও রংপুর বিভাগের জলাশয়ে পাওয়া যায়। এছাড়া বাংলাদেশের রাজশাহীর দুর্গাপুর, নাটোর, পুটিয়া, ফেনী, সান্তাহার, মহাদেবপুর, জয়পুরহাট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটর হাওর এলাকায় এই পাখি অল্প-বিস্তর দেখা যায়। পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, মায়ানমার, থাইল্যাণ্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

shamuk+bhanga++bird+mbd-3

Anastomus গণে পৃথিবীতে দুই প্রাজাতির শামুকভাঙা পাখি রয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে তার একটি প্রজাতি।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

4 6 26 544

আগামী একবছর কী করবেন খলিলুর রহমান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬ মাসস জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র …

Leave a Reply

Your email address will not be published.