মাস্টারি বিডি । জাকারিয়া তুষার
ফিচার । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ । ০৭ ফব্রুয়ারি ১৪২
`তুমি কি চিরবিরহী ডাহুকী/ প্রিয় ডাহুককে হারিয়েছো?/ আর পাগলের মতো তারে/ খুঁজে মরছো জলাভূমিজুড়ে!/ কোনও ঘন বর্ষায় কোয়াক/ ডাকে পুরুষ জাগবে তোমার/ ডাহুকী, সেদিন তারে তুমি/ কীভাবে ডেকে নেবে ঘরে?’
ডাহুকের বিরহ ছড়িয়ে আছে বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতিতে, সাহিত্যে, কাব্যে।

ডাহুক বাংলাদেশের পরিচিত পাখি। এদের ইংরেজি নাম : White Breasted Waterhen. বৈজ্ঞানিক নাম : Amaurornis phoenicurus. জলাভূমি এদের বেশি পছন্দ বলে সেখানেই বেশি দেখা যায়। ছোট ছোট ডোবা-নালা, জলভরা ধানক্ষেত, বিল-ঝিল, হাওর-বাঁওড়ের পাড়, পুকুর-দিঘি, খাল, নদীর পাড়ও এরা পছন্দ করে। ঘুরে বেড়ায় একাকী কখনো বা জোড়ায় জোড়ায়। এরা চিরবিরহী পাখি।

ডাহুক বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। কোনো কোনো জায়গায় এদেরকে ডাইক, পান পায়রা, ধলাবুক ডাহুক নামে ডাকা হয়।

সারা বছর চুপচাপ থাকলেও বর্ষা মৌসুমে কুক্ কুক্ ডাকা-ডাকিতে চারপাশ মুখরিত করে তোলে। গলার স্বর বেশ চড়া। দুপুরে অথবা গভীর রাতে এদের ডাক প্রায় ৫০০ মিটার দূর থেকেও স্পষ্ট শোনা যায়। বেশি ডাকে ভোররাতে, দুপুরে, শেষ গোধূলি ও গভীর রাতে। ডাহুক স্ত্রী-পুরুষ দেখতে প্রায় একই রকম। কপাল ধবধবে সাদা। মাথার চাঁদি, ঘাড়, পিঠ, ডানার উপরিভাগ এবং লেজের উপরিভাগ কালো। গলা-বুক-চিবুক-চোখের দুপাশ ধবধবে সাদা। পেটের তলার শেষ প্রান্ত থেকে লেজের তলার রঙ খয়েরি সিঁদুর। এ লাল লেজ ও ডানার দু’প্রান্তে ওরা শিল্পিত ভঙ্গিতে কাঁপন তুলে নাচায়। ডানার নিচে, বুকের দু’পাশটা কালো। ঠোঁট হলুদ। ঠোঁটের উপরিভাগের গোড়াটা লাল। পা হলুদাভ লালচে-সবুজ। পায়ের লম্বা ও ছোট আঙুলগুলোর রঙ একই রকম। চোখ কালো তবে বৃত্ত লাল।

ডাহুক খুব সতর্ক পাখি। আত্মগোপনে পারদর্শী। বর্ষাকাল এদের প্রজনন ঋতু। বাসা করে পানির কাছে ঝোঁপঝাড়ের ভেতরে অথবা ছোট গাছের ঝোপালো ডালে।
ডাহুক পাখি দেখতে অসম্ভব সুন্দর। কিন্তু দ্রুত নগর বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে নদী, খাল-বিল আর সুন্দর এই পাখি ডাহুক। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এই পাখির নামে নিরবধি বয়ে চলেছে ডাহুক নদী।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম