Home / আরও / সবাই তো সুখী হতে চায়…
happyness+mbd-11

সবাই তো সুখী হতে চায়…

মাস্টারি বিডি । বাঁধন খান
ফিচার ডেস্ক । ২২ অক্টোবর ২০১৮ । ০৭ কার্তিক ১৪২৫

মানুষ মাত্রেই সুখী হতে চায়। কিন্তু সুখ তো সহজে মেলে না। তাই বলে থেমে নেই বিজ্ঞান। সুখকর মুহূর্তে ভাসতে হলে কিছু কাজ করতে হবে। তবে নিজেকে সুখী করার পুরো বিষয়টি কিন্তু আপনার নিজের হাতেই রয়েছে। আপনি নিজের কাজে এবং নিজের জীবনে যদি সুখী না হতে পারেন তাহলে কোনো কিছুতেই আপনি সুখী হবেন না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সুখী হতে চাইলে আপনার অনেক বড় বড় কাজ করতে হবে। খুব ছোট্ট কিছু কাজেই মনের শান্তি খুঁজে পেতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন সেই সব সুখকর কাজের কথা—

happyness+mbd-10

দয়াশীলতার চর্চা : প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্যদের সহায়তা করুন। গৃহহীন বা দরিদ্র কিংবা অসহায়কে সামান্য সহায়তার বিনিময়ে আপনার মনে অনাবিল শান্তি মিলতে পারে। পরীক্ষায় প্রমাণ মিলেছে যে, দয়ালু মানুষের মনে সুখ বিরাজ করে। একটু দয়াশীলতার চর্চা আপনাকে নিমিষেই সুখী করে তোলে।

happyness+mbd-3

ব্যায়াম : দেহে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধিতে ছড়িয়ে পড়ে অ্যান্ড্রোফিন্স হরমোন। আর এটা সুখকর অনুভূতি সৃষ্টি করে। মেজাজ ভালো করে দেয়। আর এর জন্য ব্যায়াম এক অতুলনীয় মাধ্যম। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে, শরীরচর্চা বা কায়িক শ্রম দেহ-মনের অবসাদ দূর করে। এমনকি বিষণ্নতার চিকিৎসায় পর্যন্ত ব্যায়ামকে কার্যকর থেরাপি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দৌড়ানো, সাইকেল চালনা, ইয়োগা, নাচা ইত্যাদি দারুণ সব ব্যায়াম। প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট হাঁটলেই কাজ হয়ে যাবে।

happyness+mbd

পাতাবহুল সবুজ শাক : গাঢ় রঙের পাতাবহুল শাকসবজি ফোলেটে পূর্ণ থাকে। এই খাদ্য উপাদানটি নেতিবাচক মেজাজ এবং বিষণ্নতা দূর করতে ওস্তাদ বলে গণ্য করা হয়। মস্তিষ্কে ডোপামাইন উৎপন্ন করে। ২০১২ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, মধ্যবয়সীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে গাঢ় রঙের পাতাবহুল শাকসবজি খেলে তাদের মধ্যে আর মন খারাপ ভাব থাকে না।

happyness+mbd-4

নিজের জন্য ফুল : হার্ভার্ডের একদল গবেষক পরীক্ষা করে দেখেছেন, নিজের জন্য ফুল কিনে বাড়িতে গেলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অনেকটা দূরীভূত হয়। পরীক্ষায় যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা এ কাজের মাধ্যমে আরো অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠেন।

happyness+mbd-12

হাসি : মুখের হাসি সুখকর অনুভূতি প্রকাশের নিশানা। বিজ্ঞানীরা আরো দেখেছেন, এমনকি মন খারাপ থাকা অবস্থায় কোনো কারণ ছাড়া জোর করে হাসলেও চট করে ভালোলাগা অনুভূতি আসে। একগাল হাসির মাধ্যমে মস্তিষ্কে সুখের কেন্দ্রটাকে উন্মুক্ত করা যায়।

বাইরে যাওয়া : মনমরা হয়ে আছেন? সোজা বাইরে চলে যান। দিনের ঝকঝকে আলো কিংবা রাতের অসাধারণ সৌন্দর্য উপভোগ করে আসুন। দিনের আলোয় দেহে ভিটামিন ‘ডি’ উৎপন্ন হয়। আর এই ভিটামিন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর করে। আবার রাতে বাইরের পরিবেশও আপনার মনটাকে ভালো করে দিতে পারে।

লেবু বা কমলার গন্ধ : সাইট্রাস জাতীয় ফলের গন্ধ মন ভালো করে দেয় বলে গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে। কমলা, লেবু বা জাম্বুরার গন্ধ দেহে ইতিবাচক রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কাজেই মন ভালো না লাগলে এসব ফলের গন্ধ নিতে পারেন। চাইলে এ ধরনের ফলের এসেনশিয়াল ওয়েল কিনে রাখুন। মনে সুখ আনতে গন্ধ শুঁকে নিন।

happyness+mbd-5

খাবারে হলুদযোগ : হলুদে আছে কারকিউমিন নামের এক সক্রিয় উপাদান। এতে প্রকৃতিগতভাবেই অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট আচরণ আছে। এমনতিই প্রতিদিনই তরকারিতে মসলা হিসেবে হলুদ খাওয়া হয় আমাদের। তবে যদি সামান্য কাঁচা হলুদ রস করে হালকা গরম দুধে মিশিয়ে প্রতিদিন খেতে পারেন, তবে মনটা গোটা দিন ভালো থাকবে। হলুদ দেহে সেরোটনিন এবং ডোপামাইন হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে।

অন্য কারো জন্য অর্থ ব্যয় : সাইকোলজিক্যাল বুলেটিনে প্রকাশিত একটি গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, ‘নিজের জন্য টাকা খরচ করার এক ধরনের আনন্দ রয়েছে তা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। কিন্তু অন্য কারো জন্য অর্থ খরচ করার আনন্দ তার চাইতেও বেশি’। গবেষণায় দেখা যায় তারাই অনেক বেশি সুখী যারা অন্য মানুষকে দিতে পছন্দ করেন।

happyness+mbd-6

ভালো ঘটনার হিসাব রাখা : সত্যি সত্যি এই কাজটিই করুন। ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার প্রোফেসর মার্টিন সেলিগম্যান প্রমাণ করেন, যিনি দিনে অন্তত নিজের সাথে ঘটা ৩টি ঘটনা রাতে লিখে রাখেন- তিনি বৈজ্ঞানিকভাবেই অনেক বেশি সুখী।

নতুন কিছু করা : মানুষ একঘেমে জীবন যাপন করলে সুখ খুঁজে পান না। একঘেয়েমি কাটানোর সব চাইতে ভালো উপায় হচ্ছে নতুন কিছু করা। এটি বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত।

happyness+mbd-7

আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলা : ইউনিভার্সিটি অফ সেক্সাসের গবেষকগণ প্রকাশ করেন যিনি নিজের ভেতরে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে পারবেন তিনি ততোই নিজের দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলে সুখী মানুষ হয়ে উঠতে পারবেন।

লক্ষ্য স্থির করা : সাইকোলজিস্ট জনাথন ফ্রিডম্যান বলেন, ‘যে মানুষের নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য রয়েছে এবং যিনি নিজের জন্য একটি লক্ষ্য নির্দিষ্ট করতে পারেন তিনি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সব ক্ষেত্রেই সুখী থাকতে পারেন’। এবং ইউনিভার্সিটি অফ ওয়িসকনসিনের নিউরোসায়েন্টিস্ট রিচার্ড তার গবেষণায় পান যারা নিজের একটি লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে সে অনুযায়ী কাজ করে চলেন তিনি জীবনের প্রতি ততো বেশি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারেন এবং সুখী হন।

happyness+mbd-9

পরিমিত ঘুম : ব্রিটিশ কোম্পানি ওইও ভ্যালীর একটি গবেষণায় দেখা যায় রাতে কোনো সমস্যা ছাড়া ৬ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের টানা ঘুম মানুষকে সুখী করে তোলে।

happyness+mbd-8

ভালো বন্ধু : নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় পাওয়া যায় যাদের অন্তত ১০ জন ভালো বন্ধু রয়েছে তারা মানুষ হিসেবে অনেক বেশি সুখী।

তথ্যসূত্র : সিএনএন

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

29 6 25 2222

ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্নীতি ও বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেই বাজেট প্রণয়ন করেছি : প্রধানমন্ত্রী

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫আষাঢ় ১৪৩৩ | মাসস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.