মাস্টারি বিডি ডটকম
খুলনা । ০৯ মে ২০১৭ । ২৬ বৈশাখ ১৪২৪
নগরবাসীর বিনোদন চাহিদা মেটাতে ময়ূর নদীর তীরে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক লিনিয়ার পার্ক। ওই পার্কটি দৃষ্টিনন্দন, আকর্ষণীয় করে তুলতে ও নগরবাসীর বিনোদনের ক্ষেত্র বাড়াতে খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র ‘নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় ময়ূর নদীর তীরে দুই কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। যা মানুষ হাঁটা-চলা, বিনোদন ও শরীর চর্চায় ব্যবহার করতে পারবে। ওই দুই কিলোমিটার জায়গায় ময়ূর নদীর পাড়ে আরও নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি ঘাট কাম ডেক। ওই ঘাট ও ডেকের মাধ্যমে মানুষ নদীর পানি ব্যবহার করতে পারবেন এবং পার্কে আসা দর্শনার্থীরা নদী অভ্যন্তরের ও আশ-পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও ক্রস খাল পারাপারে দু’টি দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ কাম ডেক নির্মাণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে বিনোদন ক্ষেত্র আরও বেশি সম্প্রসারিত হয়েছে। ভাঙন রোধের জন্য দুই কিলোমিটার ফুটপাতকে পাইলিং দিয়ে আটকানো হয়েছে। যার ফলে নদীর তীর টেকসই ও শক্তিশালী হয়েছে।
যানজট নিরসন, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও নগরীবাসীর বিনোদনের চাহিদা মেটাতে ভৈরব নদের তীরের মীনাবাজারের/রেলওয়ে স্টেশন মোড় থেকে রুজভেল্ট জেটির সীমানা হয়ে জোড়াগেট পর্যন্ত আধুনিকমানের সড়কসহ একটি ব্যতিক্রধর্মী বিনোদন ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। যেখানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানুষের অবাধ যাতায়াত ছিল না। সম্প্রতি ওই সড়কসহ ক্ষেত্রটি আরো বেশি টেকসই, দৃষ্টিনন্দন, আকর্ষণীয় করে তুলতে ও বিনোদনের ক্ষেত্র বাড়াতে নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভৈরব নদের তীরে ইতোমধ্যে নির্মিত সড়ক ও রিটেইনিং ওয়ালের মধ্যের জায়গায় ফুটপথ রক্ষায় প্রটেকটিং ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। যা সড়ক ভাঙ্গন রোধ, টেকসই ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সড়কজুড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ছাতা ও তিনটি সিটিং গ্যালারী। যার ফলে সড়কে আসা দর্শনার্থী বসে নদীর আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া গাছপালা লাগানোসহ পাবলিক টয়লেট ও বিউটিফিকেশনের কাজও চলছে। যার মাধ্যমে বিনোদন ক্ষেত্র আরও বেশি সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি মানুষ হাঁটা-চলা, বিনোদন ও শরীর চর্চায় ওই সড়কটি ব্যবহার করছে।
শুধু ময়ূর নদীর তীরে লিনিয়ার পার্ক উন্নয়ন ও ভৈরব নদের তীর আধুনিকায়ন নয়- ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ বিগত ৫ বছরে ২০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এলজিইডি’র নগর অঞ্চল উন্নয়র প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু খাল খননসহ নানা ভৌত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। যার ফলে নগরীর দৃশ্যপটই অনেকটা পাল্টে গেছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কেএফডব্লিউ’র অর্থায়নে ১০৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১টি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হয়। সেগুলো গল্লামারী থেকে সোনাডাঙ্গা (আউটার বাইপার্স) সড়ক, ফুটপথ ও ড্রেন নির্মাণ, লবণচরার এম এ বারী সড়ক ও মুজগুন্নী সড়ক এলাকায় অন্তত ৫৫টি আরসিসি সড়ক, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ। বয়রা থেকে মোস্তফা মোড় পর্যন্ত হাইওয়ে সড়ক ও যশোর সংলগ্ন মীনা বাজার থেকে জোড়াগেট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, আরসিসি ড্রেন, ফুটপথ, আরসিসি পাইলিংসহ রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ। রূপসা বাস টার্মিনাল ভবন, আরসিসি রোড, ইউনি ব্লক দিয়ে ফুটপথ ও ইউনি ব্লক দিয়ে চত্বর উন্নয়ন, নদী রক্ষায় দুই পাশে শীট পাইলিং ও আরসিসি কাস্টিং দ্বারা রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, রিভার ক্রসিং এলাকায় পন্টুন, শীট পাইল, সিসি ব্লক, রিটেইনিং ওয়াল ও গ্যাংওয়ে নির্মাণ, রূপসা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বন্য নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হিসেবে ৪ কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং ও ইউনি ব্লক দিয়ে ফুটপথ উন্নয়ন। নগরীর বিভিন্ন সড়কের ২০টি স্থানে শারিরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য পেডিস্ট্রিয়ান ক্রসিং নির্মাণ, লবণচরা এরিয়া থেকে স্টীল কোম্পানি ও হাসানবাগ মোড় রোডসহ ওই এলাকায় আরও ৫টি সড়ক আরসিসি ড্রেনসহ ইউনি ব্লক দিয়ে উন্নয়ন ইত্যাদি।
অপরদিকে, এডিবি অর্থায়নে ৯৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯টি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেগুলো হলো, নতুন বাজার থেকে আবু নাসের হাসপাতাল এবং দৌলতপুরের কুলি-বাগান থেকে রেলিগেট পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণ। সিমেন্ট্রি রোড থেকে সামছুর রহমান রোড এবং ধর্মসভা মোড় থেকে খুলনা প্রেস ক্লাব ও সিমেন্ট্রি সড়কের আরসিসি ড্রেন ও কভার স্লাব নির্মাণ। নতুন রাস্তা থেকে আবু নাসের হাসপাতাল ও খালিশপুর থেকে বাস্তুহারা হয়ে গোয়ালখালি পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন, খানজাহান আলী সড়ক (ক্যাসল সালাম থেকে রূপসা মোড়), দৌলতপুর মোড় থেকে ভৈরব নদী, জীবন বীমা ভবন থেকে মজীদ স্মরণী ও আলামিন মোড় থেকে মহিলা মাদ্রাসা পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন ও কভার স্লাব নির্মাণ। রায়েল মহল বাজার, ভেটকীমারী, মতিয়াখালি, ক্ষেত্রখালি ও তমিজ উদ্দিন খালে আরসিসি ড্রেন এবং লবণচরা গোড়া খালে আরসিসি ও সিসি ব্লক দিয়ে ড্রেন নির্মাণ। বাস্তুহারা ও তালতলা খালের খনন কাজ ও পাড় বরাবর রাস্তা, নিরালা ইষ্ট ও প্রান্তিক খালে আরসিসি ও সিসি ব্লক দিয়ে লাইনিং ড্রেন ও পাড় বরাবর ইউনিব্লকের রাস্তা নির্মাণ। ময়ূর ও হাতিয়া নদী এবং ক্ষুদের খাল খনন। মতিয়াখালি, ক্ষেত্রখালি লবণচরা, ভেটকীমারী ও তালতলা খাল সংলগ্ন সড়ক কার্পেটিং এবং ইউনি ব্লক দিয়ে রাস্তা নির্মাণ ও ফুটপাত উন্নয়নসহ বসার ব্যবস্থা, সবুজবেস্টনী, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি।
কর্পোরেশনের নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ছয়ফুদ্দীন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দুই শত আট কোটি টাকা ব্যয়ে সিআরডিপির আওতায় নগরীর খাল খননসহ ব্যাপক ভৌত-অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। ফলে নগরীর দৃশ্যপটই অনেকটা পাল্টে গেছে। সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ সড়ক নিরাপত্তা ও বিনোদনের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে। অনেক খাল ও নদী খননের ফলে অবৈধ দখলমুক্ত হয়েছে। নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকটা নিরসন হয়েছে। এছাড়া সড়ক, ফুটপাত ও পেডিষ্ট্রিয়ান ক্রসিং নির্মাণের ফলে জনসাধারণের যাতায়াত সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে।
সূত্র : বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম