‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ’ এর জীবনাবসান
Mastary Sangbad
এপ্রিল ২৭, ২০২৫
আন্তর্জাতিক, কবিতা, জাতীয়, প্রচ্ছদ, ব্যানার, ব্রেকিং নিউজ
662 Views
ঢাকা, রবিবার ২৭ এপ্রিল ২০২৫ মাসস
২৬ এপ্রিল শনিবার রাতে, স্থানীয় সময়ে রাত ৯টা ২০ মিনিটে, তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি জার্মানির বার্লিনে অবস্থিত একটি বয়স্ক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎধীন ছিলেন। ২০২৪ এর ডিসেম্বরে একদিন সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়েছিলেন।
‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ’- পঙক্তিমালা এসেছিল যার কলম হয়ে, বাংলাদেশের সেই প্রথম নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দার মারা গেছেন। খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার অনুজ ও দুই কবি- জাহিদ হায়দার ও আরিফ হায়দার। আরিফ হায়দার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সময় ২৭ এপ্রিল রাত দেড়টায় দাউদ হায়দার মারা গেছেন।
এখন তাকে হিমঘরে রাখা হয়েছে। তার মরদেহ কী করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।এছাড়াও কবির ভাতিজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশটির স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে চাচা মারা গেছেন।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পাবনায় দাউদ হায়দারের জন্ম। তিনি একাধারে কবি, লেখক এবং সাংবাদিক।
১৯৭৪ এর ২৪ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় তার কবিতা ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নায় কালো বন্যায়’ প্রকাশিত হলে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলে ১১ মার্চ তাকে আটক করে পুলিশ।
২০ মে মুক্তি দেওয়া হলেও কবিকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি তখনকার সরকার। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তাকে কলকাতায় পাঠানো হয়।
কলকাতা ছিল তার কাছে একদম অচেনা বিদেশে যেখানে কাউকেই চিনতেন না। তিনি দমদম এয়ারপোর্টে নেমে প্রথমে কাঁদছিলেন। কলকাতায় তিনি সাংবাদিক-সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষ এর কাছে প্রথম আশ্রয় পান। তিনি সেখানে একমাসের মতো ছিলেন। তিনি সেখানে লেখালেখি শুরু করেন। কলকাতার কঠিন বাস্তবতার মাঝে তিনি দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায় লেখা শুরু করেন। তার জীবনে প্রেমও আসে সেখানে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণী, তাকে প্রেম নিবেদন করে। তারপরও তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি একা কলকাতা শহরের মতোই। তিনি সেখানে একজন আগন্তুক মাত্র। ১৬ আগস্ট ২০০৯ সালের সমকালে লেখা তার কলামে (বঙ্গবন্ধু ও অন্নদাশঙ্কর) দেখা যায় ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আন্তর্জাতিক তুলনামূলক সাহিত্যের’ ছাত্র ছিলেন। কলকাতায় তিনি সমাদৃত হন। অন্নদাশঙ্কর রায় তাকে নিজ বাড়ীতে আশ্রয় দেন। নির্বাসিত অবস্থায় ১৯৭৯ সালে তিনি ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসে নবায়ণের জন্য পাসপোর্ট জমা দিলে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়। দাউদ হায়দারকে ভারত থেকেও বহিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ভারত সরকার তাঁকে ভারত ত্যাগের ফাইনাল নোটিশ দেয় এই বলে যে “… ইউ হ্যাভ নো কেইস ফর গ্রান্ট অব লংটার্ম ষ্টে ফ্যাসিলিটিজ ইন ইন্ডিয়া এন্ড য়্যু আর দেয়ারফর রিকোয়েষ্টেড টু লীভ ইন্ডিয়া ইম্মিডিয়েটলি উইদাউট ফেইল।” ১৯৮৫ সালে পেন আমেরিকান সেন্টারের ২০০০ লেখকের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা চিঠি লেখা হয় যাতে দাউদ হায়দারকে ভারতের নাগরিকত্ব দেয়ার অনুরোধ করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৮৭ সালের ২২শে জুলাই তিনি ভারত ত্যাগ করে জার্মানিতে আশ্রয় লাভ করেন।
জার্মানীর নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক গুন্টারগ্রাসের সহযোগিতায় ২২ শে জুলাই ১৯৮৭ সালে তিনি জার্মানীর বার্লিন শহরে যান এবং তারপর থেকে সেখানেই আছেন। উল্লেখ্য তিনি বার্লিন যাত্রায় পাসপোর্টের পরিবর্তে জাতিসংঘের বিশেষ ট্র্যাভেল পাস ব্যবহার করেছেন। এ ব্যাপারে তখন জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় কর্মরত শামসুল বারী তাকে অনেক সাহায্য করেন। দাউদ হায়দার পরে এই জাতিসংঘের ট্র্যাভেল পাস ব্যবহার করে বহু দেশ ঘুরেছেন। ১৯৮৯ সালে তিনি জার্মানীতে সাংবাদিক হিসেবে চাকরি শুরু করেন।
তিনি প্রায় ৩০টির মতো বই লিখেছেন জার্মান, হিন্দি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জাপানি ও স্প্যানিশ ভাষায়।
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ
- বেলাভূমে যখন হাঁটছিলাম, ঘটনার সূত্রপাত
- সম্পন্ন মানুষ নই
- নারকীয় ভূবনের কবিতা
- যে দেশে সবাই অন্ধ
- ধূসর গোধূলি ধূলিময়
- আমি ভালো আছি, তুমি?
- প্রেমের কবিতাসমগ্র
- সংগস অব ডেস্পায়ার (১৯৯২)
- এই শাওনে এই পরবাসে (১৯৮২)
- শ্রেষ্ঠ কবিতা
- ইল্লিন ঝিল্লিন (আত্মজীবনীর প্রথম পর্ব)
- রাজপুত্র
- সমস্ত স্তরে ক্ষতচিহ্ন
- বানিশম্যান্ট (১৯৭৯)
- আমি পুড়েছি জ্বালা ও আগুনে (১৯৮২)
- এলোন ইন ডার্কনেস অ্যান্ড আদার পোয়েমস (১৯৭৮)
- হোল্ডিং অ্যান আফটারনুন অ্যান্ড আ লিথ্যাল ফায়ার আর্ম (১৯৮১)
- অবসিডিয়ান
- সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য তথ্যসূত্র:উইকিপিডিয়া
২০২৫-০৪-২৭