ফ্লাইওভার রূপ নিয়েছে দৃষ্টিনন্দন ক্যানভাসে
Mastary Sangbad
জানুয়ারি ৩১, ২০২৪
পরিবেশ, প্রচ্ছদ, শিল্পকলা
237 Views
মাস্টারি সংবাদ | প্রতিবেদক
শিল্পকলা | ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ | ১৭ মাঘ ১৪৩০
রাজধানীর মগবাজার থেকে সাতরাস্তামুখী ফ্লাইওভারের নিচের পিলারগুলোতে নেই কোনো ব্যানার-পোস্টার। অথচ একসময় ব্যানার-পোস্টারের আড়ালে ফ্লাইওভারের পিলারই যেন দেখা যেত না। সেই পিলারগুলোই গত কয়েক মাসে হয়ে উঠেছে বর্ণিল ক্যানভাস। তাতে ফুটে উঠছে চোখ-জুড়ানো গ্রাফিতি। তাতে শোভা পেয়েছে দেশীয় সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ ও নানা শিক্ষণীয় বিষয়।
কোনো পিলারের শিল্পকর্মে দেখা যাচ্ছে এক কিশোর চারাগাছ লাগাচ্ছে তো আরেকটি শিশু বই নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। কোনোটিতে লেখা ‘হর্ন বাজাবেন না’ বা ‘পোস্টার না লাগাই’। এ ছাড়া মেট্রো রেলের যুগে প্রবেশ করা বাংলাদেশ, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দেওয়া ক্রিকেটের সাফল্য—এমন অনেক কিছু ঠাঁই পেয়েছে গ্রাফিতির আর্টের মাধ্যমে।
ডিএনসিসি সূত্র জানিয়েছে, গত বছর এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় করপোরেশন নিজস্ব উদ্যোগে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের পিলারে গ্রাফিতি এঁকে নজর কাড়ে। এতে যুক্ত করা হয় রিকশা পেইন্টিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন সুদক্ষ শিল্পীকে। বিষয়টি প্রশংসিত হওয়ায় সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের খরচে এই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে।যুক্ত হয় জার্মানির দূতাবাস।
মগবাজার ফ্লাইওভারের এফডিসির সামনের একটি পিলারে নিজস্ব অর্থে শিল্পকর্ম করিয়েছে ইউরোপীয় দূতাবাসটি। মহাখালী ফ্লাইওভারের দেয়াল ও পিলারে চোখে পড়ে রংবেরঙের পাখি, গাছ, ফুলের চিত্র। আছে গ্রামবাংলার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। রঙিন হয়ে উঠেছে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকাটির ফ্লাইওভারের দেয়াল ও পিলার।অনেক পথচারী বলেছে, ‘ফ্লাইওভারেও এমন কিছু হতে পারে, তা আমাদের ভাবনায়ই ছিল না।
এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।’
ফাহমিদা আক্তার নামের মগবাজারের এক বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটা বাজে পরিবেশ ছিল ফ্লাইওভারের নিচে। এখন দেখতে অসাধারণ লাগে। তবে ধুলাময়লায় সৌন্দর্য হারাতে শুরু করেছে কিছু অংশ। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না হলে ধুলার ওপর অসচেতন লোকগুলো আবার পোস্টার লাগাতে শুরু করবে।’
সাধারণত নির্বাচনের সময় গ্রাম-শহরসহ সব জনপদ নির্বাচনী পোস্টারে ছেয়ে যায়। কিন্তু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক, মহাখালীতে ফ্লাইওভারের নিচে শিল্পকর্ম থাকা স্থানগুলোতে কেউই পোস্টার লাগায়নি। নগর বিশেষজ্ঞরা তাই মনে করছেন, উদ্যোগ নিয়ে নগরের বিভিন্ন স্থানকে যদি সুন্দর রাখা যায় তবে অসচেতন মানুষও সচেতন হয়ে যায়।
নগর বিশেষজ্ঞ আদিল মোহাম্মদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যখন ফ্লাইওভারের পিলারগুলোর কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ছিল না তখন ব্যানার-পোস্টারের জন্য পিলারই দেখা যেত না। আর এখন কেউ একটা পোস্টারও লাগাচ্ছে না।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশন থেকে পোস্টার-ব্যানারে ভরা অসুন্দর পিলারগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করার উদ্যোগ নিই। শুরুতে শুধু আমরা উদ্যোগ নিলেও এখন গ্রাফিতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বিভিন্ন স্পন্সর এমনকি বিদেশি দূতাবাসও আগ্রহ প্রকাশ করছে।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ
২০২৪-০১-৩১