মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ০২ জানুয়ারি ২০১৭ । ১৯ পৌষ ১৪২৩
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ২০১৬ সালে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই অভিযানে অবৈধ নব্য জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ নেতাদেরও আটক করা হয়।
নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিশ্লেষক মেজর জেনারেল আবদুর রশীদ (অব.) বলেন, সদ্য বিদায়ী বছরের শুরুতে জঙ্গিবাদের উত্থান ছিলো লক্ষ্যণীয়। এই প্রেক্ষাপটে বছরের মাঝামাঝি হলি আর্টিজান বেকারীতে হামলা হয়। কিন্তু এই হামলার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর একের পর এক অভিযানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এর সর্বশেষ অভিযানটি ছিল আশকোনায়। এসব অভিযানে নব্য জেএমবি’র অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয় এবং কয়েকজন শীর্ষ নেতাসহ ৩৫ জন নিহত হয়। অর্থাৎ দমনের সফল বছর হিসেবে অভিহিত করতে পারি ২০১৬ সালকে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ নব্য জেএমবিকে সংগঠিত হওয়া রোধ এবং তাদের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে জঙ্গি কর্মকান্ড প্রতিরোধে সফল ভূমিকা পালন করে।
ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সসন্যাশনাল (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল বলেন, নিরাপত্তা অভিযানে অবৈধ সংগঠনগুলোর অনেক নেতা নিহত হয়েছে। এছাড়া অনেকের মৃত্যুদন্ড ও যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে।
পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক অভিযানে প্রায় ৪০ জেএমবি সদস্য নিহত, অনেকে আত্মসমর্পণ করেছে এবং অনেককে গ্রেফতার করা হয়।
অপরদিকে হামলার ঘটনায় জেএমবি’র ৬৪ কর্মীর মৃত্যুদন্ড, ১৫৪ জনের যাবজ্জীবন ও ২৪২ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিভিন্ন অভিযোগে ১৭৯২ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এবং ২০৪৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দিয়েছে।

র্যাবের মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ সম্প্রতি বলেন, জেএমবি’র শীর্ষ নেতা মাওলানা শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সুন্নী, থিংক ট্যাঙ্ক আবদুল আওয়াল, মজলিশে সুরা সদস্য খালেদ সাইফুল্লাহ ও সালাহ উদ্দিনের মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পর সংগঠনটি মুখ থুবড়ে পড়ে।
এছাড়া ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী একই সঙ্গে বোমা বিস্ফোরণের ১৬১ মামলায় ৬৬০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ১০৩টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং ৫৮টি বিচারাধীন রয়েছে। আদালত ১৫ জেএমবি’র মৃত্যুদন্ড, ১১৮ জনের যাবজ্জীবন, ১১৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ১১৮ জনকে খালাস দিয়েছে।
দেশব্যাপী বোমা হামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে জেএমবি প্রধান মাওলানা শাইখ আবদুর রহমান ও হরকাতুল জেহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের অপারেশনাল চীফ মাওলানা আবদুল হান্নান রয়েছে।
১ জুলাই গুলশানের আটিজান বেকারীর উদ্ধার অভিযানে ৫ জেএমবি নিহত হয়।
গুলশান হামলার পর গোয়েন্দা তদারকি বাড়ানোর ফলে ২৬ জুলাই কল্যাণপুরে এক অভিযানে ৯ জেএমবি কর্মী নিহত হয়।
২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় বিশেষ অভিযানে গুলশান হামলার হোতা তামিম চৌধুরীসহ ৩ জেএমবি কর্মী নিহত হয়।

সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর আশকোনার সূর্য ভিলায় পুলিশ অভিযানের সময় এক মহিলা জঙ্গি আত্মঘাতি বোমায় নিহত হয়। এ অভিযানে গুলশান ও সোলাকিয়া হামলার প্রশিক্ষণ দাতা মেজর (অব.) জাহিদের স্ত্রী ও নব্য জেএমবি নেতা মাইনুল মুসার স্ত্রী, দু’শিশুসহ আত্মসমর্পণ করে।
এর আগে ২১ জুলাই জেএমবি’র উত্তরাঞ্চলের নেতা মাহমুদুল হাসান তানভিরসহ ৪ জন গ্রেফতার হয়।
২৪ আগস্ট টঙ্গির সাইনবোর্ড এলাকায় জেএমবি’র শীর্ষ মহিলা নেত্রী আকলিমা রহমান মনিসহ ৪ নারী সদস্য গ্রেফতার হয়।
গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও আশুলিয়ায় পুলিশ ও র্যাবের ৪ অভিযানে জেএমবি’র ঢাকা বিভাগীয় অপারেশনাল কমান্ডার ফরিদুল ইসলাম আকাশসহ ১২ সন্দেহভাজন জেএমবি নিহত হয়।
পুলিশ জানায়, গুলশান ক্যাফে হামলার হোতা তামিম আহমেদ চৌধুরী আগস্টে নারায়ণগঞ্জে নিহত হওয়ার পর তানভীর নব্য জেএমবি’র সমন্বয়ক ছিলো।
সূত্র : বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম