ঢাকা, শুক্রবার ১৬ মে ২০২৫মাসস
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হালদা নদীর রাউজান অংশের আজিমের ঘাট এলাকায় একটি মৃত মৃগেল মাছ উদ্ধার করে স্থানীয় কয়েকজন ডিম সংগ্রহকারী। মাছটির ওজন পাঁচ কেজি ১০০ গ্রাম। দৈর্ঘ্য দুই ফুট ৬ ইঞ্চি, প্রস্থ পাঁচ ইঞ্চি। ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার ড্রেজারের আঘাতে মাছটির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীতে ডিম ছাড়ার মুহূর্তে আবারও পেটে ডিমসহ মা মাছ মাছের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে দুটি মা মাছের মৃত্যু হলো। মাছ দুটির শরীরেই আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ড্রেজারের আঘাতে মা মাছগুলোর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
প্রজনন মৌসুমে মাছ মরে ভেসে ওঠার ঘটনায় উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হালদা নদীর রাউজান অংশের আজিমের ঘাট এলাকায় একটি মৃত মৃগেল মাছ উদ্ধার করে স্থানীয় কয়েকজন ডিম সংগ্রহকারী। মাছটির ওজন পাঁচ কেজি ১০০ গ্রাম। দৈর্ঘ্য দুই ফুট ৬ ইঞ্চি, প্রস্থ পাঁচ ইঞ্চি। ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার ড্রেজারের আঘাতে মাছটির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
এর আগেও গত ৪ মে একই স্থানের অদূরে ড্রেজারের আঘাতে পাঁচ কেজি ওজনের মৃত আরেকটি ডিমওয়ালা কাতলা মাছ উদ্ধার করা হয়েছিল।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন আজাদী বলেন, ‘উদ্ধারকৃত মৃত মৃগেল মাছটি সুরতহাল রিপোর্ট করে হালদার পাড়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। মাছটির শরীরে আঘাতে চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারালো কিছু দিয়ে এটির মাথায় আঘাত করা হয়েছে। এর আগে ৪ মে উদ্ধার হওয়া মাছটির গায়েও ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল।’
হালদায় মা মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। তারা বলছেন, ডিম ছাড়ার এই সময়ে একটি মা মাছ মারা যাওয়া হালদার জন্য ভালো লক্ষণ নয়। তাই হালদার প্রতি প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে।
এদিকে, ডিম সংগ্রহ করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। হাটহাজারীর গড়দুয়ারা এলাকার বর্ষীয়ান ডিম সংগ্রহকারী মো. কামাল উদ্দিন সওদাগর বলেন, ‘নৌকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন অপেক্ষায় আছি।’
হালদায় প্রজনন মৌসুমের শুরু হয়েছে প্রায় দেড় মাস আগে। এর মধ্যে নমুনা ডিমও ছাড়েনি মা মাছেরা। তবে সরঞ্জাম নিয়ে ডিম সংগ্রহকারীরা নদীতে দিন-রাত অবস্থান করছেন। এর মধ্যে নদীতে মা মাছ মরার সংবাদে উদ্বিগ্ন নদী গবেষকেরা।
তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টির দেখা নেই। প্রকৃতিতে বিপদ সংকেত থাকলেও মা মাছ ডিম ছাড়ে না। শুনেছি ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। সেরকম হলে ঝড় শেষ হতে হবে। তারপর মা মাছ ডিম ছাড়বে। আমরা আগামী অমাবস্যার অপেক্ষায় আছি। সবাই বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছে। কিন্তু এর মধ্যে প্রতিদিন মা মাছের অস্বাভাবিক মৃত্যু হচ্ছে।’
হালদায় প্রজনন মৌসুমের শুরু হয়েছে প্রায় দেড় মাস আগে। এর মধ্যে নমুনা ডিমও ছাড়েনি মা মাছেরা। তবে সরঞ্জাম নিয়ে ডিম সংগ্রহকারীরা নদীতে দিন-রাত অবস্থান করছেন। এর মধ্যে নদীতে মা মাছ মরার সংবাদে উদ্বিগ্ন নদী গবেষকেরা। তারা বলছেন, ‘প্রজনন মৌসুম শুরু হলেও এখনও নমুনা ডিমও ছাড়েনি মা মাছেরা। এর মধ্যে গত বছরের মতো একের পর এক মা মাছ মরা উদ্বেগের।’
হালদা বিশেষজ্ঞ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুনের শেষ হালদার মা-মাছের প্রজনন মৌসুম। এখন জো চলছে। জো-তে মা মাছ ডিম ছাড়ে। বজ্রসহ বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল হলে পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে মা মাছ।’
সূত্র : যুগান্তর
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম