ঢাকা । ২১ ডিসেম্বর ২০১৬ । ০৭ পৌষ ১৪২৩
আবদুল গফুর হালী দীর্ঘ ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে একটানা মাইজভান্ডারী গান, মরমি গান এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার গান লিখে সারা দেশেই খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখা ও সুর করা ‘সোনাবন্ধু তুই আমারে করলি রে দিওয়ানা’, ‘রসিক তেল কাজলা’ ‘লাল কোর্তা অলা’, ‘মনের বাগানে ফুটিল ফুলরে’, ‘তুঁই যাইবা বন্ধু মাছ মারিবার লাই’, ‘অ শ্যাম ন যাইও’, ‘ঢোল বাজের আর মাইক বাজের’, ‘বানুরে অ বানু আঁই যাইয়ুম গই শরত তোঁয়ার লাই আইন্যম কী’, কিংবা ‘দেখে যারে মাইজভাণ্ডারে’, ‘কতো খেলা জানরে মাওলা’, ‘মাইজভাণ্ডারে কি ধন আছে’ এবং মোহছেন আউলিয়া গান- ‘চল যাই জিয়ারতে মোহছেন আউলিয়ার দরবারে’, ‘আল্লাহর ফকির মরে যদি’, হালীর লেখা অন্যতম গান। তাঁর গান গেয়ে বিখ্যাত হয়েছেন প্রয়াত শেফালী ঘোষ, শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণবসহ বর্তমান সময়ের সন্দীপন, শিরিনসহ অনেক শিল্পী। আবদুল গফুর হালীর গান নিয়ে জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাগ্রন্থ।
তাঁর মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমেছে শোকের ছায়া। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধূরী, পিএইচপি পরিবারের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শোক প্রকাশ করেছেন।
গফুর হালীর মরদেহ আজ বুধবার নগরীর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির পিএইচপি হাইটসে রাখা হবে। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে প্রথম জানাজা, জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে বাদ মাগরিব দ্বিতীয় জানাজা এবং শুক্রবার নিজ গ্রাম পটিয়ার রশিদাবাদ ইউনিয়নের শোভনদন্ডীতে বাদ জুমা তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, আবদুল গফুর হালী ১৯২৮ সালের ৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার রশিদাবাদে জন্ম নেন। তাঁর পিতা আবদুস সোবহান এবং মাতা গুলতাজ খাতুন। রশিদাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জোয়ারা বিশ্বম্বর চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন। তবে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পর ইস্তফা দেন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম