
মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
ফিচার । ২২ ডিসেম্বর ২০১৮ । ০৮ পৌষ ১৪২৫
আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
কালজয়ী কবি জীবনান্দ দাশের কবিতায় শালিক পাখিটি কবির পরজন্মের স্বরূপ হয়ে এসেছে। এ পাখিটি বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই দেখা যায়। পাখিটি ভাত শালিক নামেও পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম: Acridotheres tristis) Sturnidae (স্টার্নিডি)। পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এদের আবাস। সুখের কথা হচ্ছে, বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

শালিকের দেহের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে বাদামি রঙ। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা ও ঘাড় কালচে। বুকের উপরের অংশ ও লেজ-উপরি ঢাকনিও কালো। দেহের বাকি অংশ কালচে বাদামি।

চোখ বাদামি বা লালচে বাদামি। ঠোঁট হলুদ। নিচের ঠোঁটের গোড়া সামান্য বাদামি-সবুজ। পা, পায়ের পাতা ও নখর হলুদ।

ভোরে যেসব পাখির কলকাকলিতে বাংলার মানুষের ঘুম ভাঙে, শালিক তাদের অন্যতম। দিনের অবসর সময়ে এরা প্রচুর শব্দ করে ডাকাডাকি করে।

এদের ডাক বেশ বিচিত্র এবং অসংখ্য প্রকরণ দেখা যায়। এরা উচ্চকণ্ঠে চিড়িক শব্দে ডাক দেয়, শিস দেয়, গর গর শব্দ করে এবং পুনঃপুনঃ ডাকে রেডিট্…রেডিট্…রেডিট্…।

প্রায়ই পালক ফুলিয়ে মাথা উপর-নিচ করে ঝাঁকিয়ে এরা ডাকাডাকি করে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম