মিডিয়া ইউনিটির সমাবেশ
মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
টেলিভিশন চ্যানেলের বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের বৃহত্তম ঐক্য প্ল্যাটফর্ম ‘মিডিয়া ইউনিটি’ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা ক্লাবে সমাবেশ করেছে।
রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এ সমাবেশ অনুষ্ঠানে ‘মিডিয়া ইউনিটি’ জানিয়েছে, অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপনচিত্রের প্রচার বন্ধ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) থেকে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মিডিয়া ইউনিটির নেতারা জানিয়েছেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের আন্তরিকতায় অবৈধ ডাউনলিংক চ্যানেল বন্ধ হয়েছে।
‘শিল্পে বাঁচি- শিল্প বাঁচাই’ ব্যানারে গত ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত টেলিভিশন শিল্পী ও কলাকুশলীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। যারমধ্যে ডাউনলিংক চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের দাবি ছিল অন্যতম। ওই সমাবেশে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিদেশি সিরিয়াল বাংলায় ডাবিং করে প্রচার বন্ধেরও আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পহেলা ডিসেম্বর রাজধানীর গুলশানের হোটেল সিক্স সিজনস-এ আয়োজিত মিডিয়া ইউনিটির তৃতীয় সংহতি সভায় বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন পাচার বন্ধে দেয়া মিডিয়া ইউনিটির সুপারিশ খতিয়ে দেখতে বিটিভির মহাপরিচালককে প্রধান করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
এছাড়া একই সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিদেশে বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে ৪শ কোটি টাকা চলে যাওয়া মেনে নেয়া যায় না। সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস প্রদান করেন মন্ত্রী।
এদিকে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নে এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখা এবং দেশীয় শিল্পী সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়ার আহবানও জানান তিনি।

‘মিডিয়া ইউনিটি’র সভায় এটিএন বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, তিনি তার টেলিভিশন চ্যানেল ভারতে সম্প্রচারের চেষ্টা করতে গিয়ে দেখেছেন এজন্য পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। অথচ বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচারের অনুমতির জন্য লাগে মাত্র দেড় লাখ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক সাংবাদিক। এই বৈষম্য দূর করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না তা জানতে চান তিনি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার প্রশ্ন যে, ওখানে যদি আমাদের টেলিভিশন চ্যানেল যেতে চাই তাহলে ৫ কোটি টাকা ফি ধরে তাহলে আমাদের এখানে দেড় লাখ টাকা কেন? আর এই ফিটা কে নির্ধারণ করে? আমিতো সেটাও জানি না।
এ সময় একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, এটা সরকার করে।
প্রধানমন্ত্রী তখন প্রশ্ন করেন, তাহলে আমরা দেড় লাখ টাকা কেন করলাম?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমিতো জানি না এটা। এ বিষয়টা এত ডিটেইল জানা ছিল না যে, এত বিরাট একটা বৈষম্য। যা হোক এটা নিয়ে আলোচনা চলছে আপনারা জানেন। নিশ্চয়ই এটার একটা ব্যবস্থা হবে।
সূত্র : ইত্তেফাক ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম