মাস্টারি বিডি ডটকম
১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ । ৩১ ভাদ্র ১৪২৩
ঢাকার দুই মেয়র দাবি করেছেন ঘোষিত ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারিত হয়েছে। মঙ্গলবার ঈদের দিন দুপুর থেকে বর্জ্য অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার যে কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল, তার তথ্য জানাতে আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন এবং উত্তরের আনিসুল হক।
বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সাঈদ খোকন বলেন, নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় আমরা আজ এই মুহূর্ত পর্যন্ত (বেলা সাড়ে ১১ টা) দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করতে সমর্থ হয়েছি।
মেয়র সাঈদ খোকন জানান, গত দুই দিনে ৩২৪টি গাড়িতে ২ হাজার ৯০২টি ট্রিপের মাধ্যমে ১৯ হাজার ৮ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এবছর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২ লাখ ৪০ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে।
তবে পশু কোরবানির জন্য করপোরেশনের নির্ধারিত ৫০৪টি স্থানে উপস্থিতি আশানুরূপ ছিল না বলে মন্তব্য করে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আমাদের এ উদ্যোগের দ্বিতীয় বছর চলছে। গতবছরের তুলনায় এবার উপস্থিতি বেশি ছিল। তবে দীর্ঘদিনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগবে।
ঈদের দিন সকালে ভারি বৃষ্টি হওয়ায় শান্তিনগর ও জুরাইনসহ কয়েকটি এলাকায় কোরবানির পশুর রক্ত বৃষ্টির পানিতে মিশে একাকার হয়ে যায়। ফলে গলিপথ লাল রঙ ধারণ করে বিরল দৃশ্য তৈরি হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব ছবি ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় সাঈদ খোকন বলেন, এটা একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। আমরা বুঝতেই পারিনি এমন হতে পারে। রাস্তাঘাটে রক্তমিশ্রিত পানি জমে থাকা ‘দৃষ্টিকটু’।
আগামী কোরবানির ঈদে এ বিষয়টি আমাদের মাথায় থাকবে। ঈদের দিন বৃষ্টি হলে নগরবাসীও কোরবানির জন্য সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্তরের মেয়র আনিসুল হক বলেন, আমার এলাকায় এক লাখ ৯৭ হাজার ৫৩৫টি পশু কোরবানি হয়েছে।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সাত হাজার ৮০১ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। “আপনারা দেখেন কোথাও কোনো বর্জ্য নেই” – এমন মন্তব্য করে আনিসুল বলেন, বর্জ্য অপসারণ কাজে ৩ হাজার ৪৮০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করেছেন। আমরা সব ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করতে পেরেছি।
নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানিতে নগরবাসীর আগ্রহ বাড়ছে বলে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, আমরা পশু কোরবানিকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আনার চেষ্টা করছি। কিছু ওয়ার্ডে ৮০ ভাগ পশু নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করা হয়েছে। আবার কোথাও হয়নি। তবে এভাবে আরও কয়েকবছর প্রচারণা চালাতে হবে। আশা করি কয়েক বছরের মধ্যে আমরা জবাইখানা করে ফেলতে পারব। তখন সেখানেই কোরবানি করা সম্ভব হবে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম