মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ঢাকা । ১০ মার্চ ২০১৮ । ২৬ ফাল্গুন ১৪২৪
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সেমিনারে ভাষণ দেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে অতুলনীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই ভাষণ বিশ্বের সকল স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস। তিনি বলেন, ‘এই ভাষণের তুলনা আর কারো সাথে হয় না। এর আবেদন বোধহয় আমাদের জীবন থেকে কোনো দিন মুছে যাবে না। প্রতিনিয়তই এর আবেদন থেকে যাবে। যুগ যুগ ধরে এই ভাষণ তার স্থান করে নেবে।’
শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট আয়োজিত ‘৭ই মার্চের ভাষণ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সমগ্র বাঙালি জাতি এর জন্য গর্বিত। এই ভাষণ ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘ ২১ বছর হারিয়ে গিয়েছিল এবং যা মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়েছিল, আমরা আমাদের সেই হারানো মানিক ফিরে পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘কেবলমাত্র আমাদের জন্যই নয়—বিশ্বের সকল স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের জন্য এই ভাষণ প্রেরণার উৎস। ফলে বিশ্বের সকল দেশ এই ঐতিহাসিক ভাষণ অনুসরণ করতে পারে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন। এর ওপর আলোচনা করেন এশিয়ান এজ’র সহযোগী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আলম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আকসাদুল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন স্মৃতি ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ট্রাস্টের সিইও মাশুরা হোসেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতি ছাড়া বিশ্বের আর কোনো জাতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ২৩ বছরের এ ধরনের সফল অসহযোগ আন্দোলন করতে পারেনি। তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিপক্ষ ছিল আলবদর, রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। তারা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্ষমতা দখল করে উন্নয়নের গতি থামিয়ে দিয়েছিল এবং ইতিহাস বিকৃতি করে। কিন্তু, এখন বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এবং এখন এটি সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ একটি অসহযোগ আন্দোলনকে সশস্ত্র বিপ্লবে পরিণত করে। এই ভাষণ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের সকল মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শাস্তি প্রদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর সরকার দেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করে যাবে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণেও এটি উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং এগিয়ে যাব, আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব।’ বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম