
মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
ফিচার । ঢাকা । ১৮ এপ্রিল ২০১৯ । ০৫ বৈশাখ ১৪২৬
বসতভিটার ঢালু জায়গায়, বাড়ির আনাচে-কানাচে বরুণ ফুল গাছ জন্মাতে দেখা যায়। আমাদের দেশে বরুণ গাছ সাধারণত বইন্যা গাছ নামেই বেশি পরিচিত। তবে অঞ্চলভেদে এ গাছকে বালাই লামক, অবিয়ুচ, বর্ণা ও বিদাসি নামেও ডাকা হয়। বরুণ একটি বনজ গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Crataeva religiose. জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার স্থানীয় গাছ।

এশিয়াকেই এর আদি নিবাস হিসেবে ধরা হয়। গাছের পাতা বেশ ঘন, সরল ও হালকা সবুজ বর্ণের। কাণ্ড ও ডালপালায় সাদাটে ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বরুণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জলাভূমি কিংবা ডোবা-নালার পাশে অনেকটা অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে ওঠা বরুণ গাছ তার নয়নাভিরাম ফুলের মাধ্যমে প্রতি বছর অস্তিত্বের জানান দেয়। গাছটি সারা বছর সবার দৃষ্টির অগোচরে থাকলেও গ্রীষ্মের শুরুতে যখন এর ডালপালা ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় তখন কারোরই দৃষ্টি এড়ায় না। সাদা পাপড়ির মাঝে লালচে রঙের কেশরযুক্ত থোকা থোকা বরুণ ফুল বেশ দৃষ্টিনন্দন। মূলত বসন্তের শেষ দিকে ফুল ফুটতে দেখা যায়। বৈশাখ পর্যন্ত গাছে গাছে ফুলের সমারোহ থাকে।

বরুণ ফুলের নজরকাড়া সৌন্দর্য প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে বর্ণিল সাজে। এ ফুলের হালকা মিষ্টি গন্ধ মুগ্ধ করে সবাইকে। বরুণ ফুলে প্রচুর পরিমাণে মধু থাকায় মৌমাছিরা মধু সংগ্রহে ফুলের প্রতি আকৃষ্ট হয়। যান্ত্রিক শহরে যেখানে বরুণ গাছের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন সেখানে গ্রামাঞ্চলে বরুণ গাছের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। বহুবর্ষজীবি এ উদ্ভিদটি গ্রামে প্রধানত জ্বালানি কাঠ হিসেবেই বেশি ব্যবহৃত হয়। বরুণ গাছে গোলাকৃতির ফল হয়ে থাকে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম