
মাস্টারি বিডি । শিমুল আহসান
ফিচার । ঢাকা । ০৫ মে ২০১৯ । ২২ বৈশাখ ১৪২৬
ফল অথবা খাবারে রুচি বর্ধনকারী এই ছোট সবুজ ফলটি পৃথিবীতে আসতে বিলম্ব করাতে, এর নামকরণ করা হয়েছে বিলম্বী এমন ধারণা অনেকেরই। এ ফল দেখতে অনেকটা লম্বা সাইজের টমেটোর মতো, রং হাল্কা সবুজ। তবে পাকা অবস্থায় ধারণ ফলটি হলুদাভ বর্ণ। তেঁতুলের মতো এতটা কড়া টক নয়।

বিলম্বী অক্সিডেসি গোত্রের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। বিলিম্বি কামরাঙ্গা গোত্রের ফল। এটি কামরাঙ্গার নিকট আত্মীয়। এর স্বাদও অনেকটা কামরাঙ্গার মতোই। শুধু স্বাদই নয় প্রজাতি, বিন্যাস, পরিবার, গুণ সবকিছুতেই কামরাঙ্গার নিকটাত্মীয় এই ফলটি। বাংলা নাম বিলম্বী। ইংরেজি নাম Bilimb.। বৈজ্ঞানিক নাম Averrhoa bilimbi.। অন্যান্য নাম : বিলিম্বি, বিলম্বীর গাছ । বিলম্বী ইংরেজিতে Cucumber tree বা Tree sorrel নামেও পরিচিত।

বিলম্বী দেখতে অনেকটা পটলের মতো, তবে আরো ছোট। ফল ৩-৬ সে.মি. পর্যন্ত বড় হয় এবং রং উজ্জ্বল, হালকা সবুজ। বিলম্বী গাছে প্রচুর ফল আসে এবং ধরে খুবই অদ্ভুতভাবে। গাছের ডালে তো বটেই, কাণ্ড ঘিরেও ফল ধরে। গাছ খুব বেশি বড় হয় না, ৫-১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়।

পাতাগুলো কামরাঙ্গার মতোই। নিয়মিত পাতা ছেটে ও ডালপালা পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে সারা বছরই এ গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়। গাছে বেশি ফুল ফোটে ফেব্রুয়ারিতে এবং মোটামুটি সারা বছরই ফল পাওয়া যায়। শীতকালে বিলম্বী গাছের পাতা ঝরে পড়ে তবে বসন্তের আগমণে আবার নতুন কুঁড়ি ও পাতা গজাতে থাকে। একটি পূর্ণ গাছে বছরে প্রায় ৩০০ কেজি বিলিম্বির ফলন হয়।

এর উৎপত্তি সম্ভবতঃ ইন্দোনেশিয়ার মলুক্কাসে, তবে অনেক উদ্ভিদবিজ্ঞানীর মতে, বিলম্বীর উত্পত্তি ব্রাজিলে এবং পরে তা দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এটি মূলতঃ উষ্ণ আবহাওয়ার উদ্ভিদ। ভারতের উষ্ণ আবহাওয়ায় বিলম্বী খুব ভালো জন্মে। বিশেষ করে কেরালা, মহারাষ্ট্র, তামিল নাড়ু এবং গোয়ায় বিলম্বী খুবই জনপ্রিয়।

এই গাছটি ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মায়ানমার প্রভৃতি দেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই চাষ করা হয় অথবা আধ-বুনো অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এশিয়ার বাইরে, গাছ জানজিবার মধ্যে চাষ করা হয়। ১৭৯৩ সালে বিলিম্বি টিমর থেকে জামাইকা চালু করা হয় এবং বেশ কিছু বছর পর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা যেখানে এটি mimbro হিসাবে পরিচিত হয় সর্বত্র চাষ করা হয়।

বাংলাদেশে বিলম্বী কাঁচা খাওয়া হয়। বিলম্বী কামরাঙ্গার মতোই ঝাল-লবণ দিয়ে খেতে ভালো লাগে। ছোট মাছ ও ডালের সঙ্গে বিলম্বীর জুড়ি নেই। ডাল বা মাংশতেও বিলম্বী ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া বিলম্বী কামরাঙ্গার মতোই ঝাল লবণ দিয়ে খেতে ভালো লাগে। ফলের স্বাদ টক, পাকা বিলম্বী দিয়ে আচার বা চাটনি তৈরি করা হয়। বিলম্বী দিয়ে তৈরি চাটনি ও আচার খুবই মজাদার। এ ফলটি কাঁচা অবস্থায় খুব টক হলেও রান্নার পর বা চাটনি কিংবা আচার তৈরি করার পর টক থাকে না।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম