Home / অপরাধ / পাকিস্তানের ২৬১ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি
war+crime+pakistan+mbd

পাকিস্তানের ২৬১ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি

মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ০৪ আগস্ট ২০১৭ । ২০ শ্রাবণ ১৪২৪

সাবেক পাক প্র্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান, জেনারেল আবদুল হামিদ খান, লে. জেনারেল পীরজাদাসহ বর্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২৬১ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি করেছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিট ভবনের স্বাধীনতা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন তথ্য অনুসন্ধান কমিটির আহবায়ক মাহাবুব উদ্দিন বীর বিক্রম সংবাদ সম্মেলনে ২৬১ জনের সংগৃহীত তথ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের আহবায়ক শাজাহান খান এমপি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মাহবুব উদ্দিন বীরবিক্রম বলেন, কমিটি নিরলস পরিশ্রম করে যে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে তার মাঝেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপরাধের যে ভয়াবহতা আমরা লক্ষ্য করছি তাতে মনে হয় যথেষ্ট হবে না। আমরা এই পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যাবলী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত তদন্ত কমিটির হাতে অর্পণ করেছি। তথ্য সংগ্রহ কমিটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কমিটির নিকট অর্পন করা হবে।

তিনি বলেন, আজকে আমরা সর্বসাকুল্যে ২৬১ জনের বিরুদ্ধে যে সকল তথ্য সংগ্রহ করেছি তা জাতির সামনে উপস্থাপন করছি। এদের মধ্যে ৪৩ জন সিনিয়র পাকিস্তানি জেনারেল, মেজর জেনারেল ব্রিগেডিয়ার, লে. কর্ণেল এবং দু-একজন বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও আছেন। হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্টেই এদের বিরুদ্ধে অনেক স্বাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া পাকিস্তানি উচ্চ পদস্থ সামরিক কমৃকর্তাবৃন্দ লিখিত পুস্তকসমূহে এই চিহ্নিত সামরিক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে অনেক স্বাক্ষ্য বিধৃত আছে।

মাহাবুব উদ্দিন জানান, ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্য যারা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত তাদের বিচারের দাবীতে ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। পালিয়ে যাওয়া পাকিস্তানি সৈন্য ও সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের দাবিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের কাছে ২১ দফা দাবি ও প্রস্তাব জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেন। একই সাথে সংগঠনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালকে সহযোগীতা করার জন্য মাহবুব উদ্দিন বীরবিক্রমকে আহবায়ক করে একটি তথ্য সংগ্রহ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যতম দু’জন সদস্য হলেন- ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন বীর উত্তম এবং হাবিবুল আলম বীর প্রতীক।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, জঙ্গীবাদ নির্মূল, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। ৬ জনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। অনেকগুলো মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, বর্বর পাক সেনাদের বিচার ত্বরান্বিত করা এবং তাদের কাছে বাংলাদেশের পাওনা ৩৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লড়াইয়ে সকলকে এক হতে হবে।

নৌ-মন্ত্রী বলেন, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত গোষ্ঠী যেন বাংলাদেশে আর কোন দিন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালের পাক হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসর-রাজাকার-আলবদরদের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ ও সৃষ্টি করতে হবে। পাকিস্তানিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় যে নৃশংস হত্যাকান্ড, ধর্ষণ, লুট করেছে সেজন্য এখনো তারা বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি। তাদেরকে অবশ্যই তাদের অপকর্ম ও নৃশংসতার জন্য বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের উপস্থিত ছিলেন, শিরিন আক্তার এমপি, ইসমত কাদির গামা, আলাউদ্দিন মিয়া, ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন বীর উত্তম, হাবিবুল আলম বীর প্রতীক, ওসমান আলী, কামরুল আলম সবুজ, মোঃ সাহাবুদ্দিন, এবিএম সুলতান, কামাল উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বাসস

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

14 4 26 01

মঙ্গলের বারতায় শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল ২০২৬ মাসস মঙ্গলের বারতায় উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখী …

Leave a Reply

Your email address will not be published.