মাস্টারি বিডি ডটকম
নড়াইল । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ১০ ফাল্গুন ১৪২৩
‘অন্ধকার থেকে মুক্ত করুক একুশের আলো’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও নড়াইলবাসী লাখো মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মরণ করলো। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের কুড়িরডোপ মাঠে একুশের আলো’র, আয়োজনে এবং স্কয়ার গ্রুপের সহযোগিতায় এ মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। সংবাদ বাসস-এর।
সন্ধ্যায় বিশাল কুড়িরডোব মাঠ লাখো মোমবাতি দিয়ে প্রজ্জ্বলন এবং মোমবাতির আলোর শিখায় শহীদ মিনার, জাতীয় ফুল শাপলা, বাংলা বর্ণমালা তৈরি ও ভাষা দিবসের ৬৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে ৬৬টি ফানুস ওড়ানোর মধ্যদিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নড়াইলের ভাষা সৈনিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রিজিয়া খাতুন ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের পত্নী বেগম ফজিলাতুন্নেছা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, নড়াইল পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস, উদযাপন পর্ষদের আহবায়ক প্রফেসর মুন্সী হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব নাট্য ব্যক্তিত্ব কচি খন্দকার প্রমুখ।

দৃষ্টিনন্দন এসব নকশা নড়াইলবাসীসহ ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন। নড়াইলের সব পথ, অলিগলি যেন মিশে যায় কুড়িডোব মাঠ এলাকায়। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ ভ্যানে বা রিকশায় চড়ে, কেউবা প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল নিয়ে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন দেখেন। সব চোখ গিয়ে পড়ে বাহারি আলোর বর্ণিল ছটায়।
সন্ধ্যা ঠিক ৬ টা ১৫ মিনিটে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পীরা ‘আমার ভায়ের রক্ত রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে গণসঙ্গীত ও কবিতা পরিবেশন করা হয়। ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে একই সঙ্গে শহরের মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও ব্যক্তি উদ্যোগে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে শহরবাসী।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলন দেখতে আসা রাশেদ আহমেদ জানান, নড়াইলের কুড়িরডোব মাঠের এ অনুষ্ঠানটি শুধু নড়াইলবাসীর নয় দেশবাসীর কাছে একটি ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান। যা দেখতে প্রতি বছর কয়েক হাজার মানুষ বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে আসে ।
অনুষ্ঠান দেখতে আসা মাহাবুবুর রহমান, সহিদুল ইসলাম, জুয়েল আহম্মেদ জানান, নড়াইলের এ অনুষ্ঠানটি বিশ্বের একটি মডেল। একসাথে অন্য কোথাও এতগুলো প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয় না। এ অনুষ্ঠানটিকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানান তারা।
আয়োজক একুশ উদযাপন পর্ষদের সদস্য সচিব বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব কচি খন্দকার জানান, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে আমাদের সমাজ থেকে সকল প্রকার অন্ধকার দূর করা সম্ভব, সেই চেতনাকে বুকে ধারণ করতেই আমাদের এ আয়োজন।
একুশ উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক প্রফেসর মুন্সী হাফিজুর রহমান বলেন, একুশের আলোয় মুছে যাবে সকল অন্ধকার সারা পৃথিবী হবে শান্তিময়- এই হোক আমাদের প্রত্যশা।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে নড়াইলের এই কুড়িরডোপ মাঠে ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর নান্দনিক এ অনুষ্ঠানটি নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার দর্শনার্থী উপভোগ করে থাকেন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম