ঢাকা, শুক্রবার ০৮ মে ২০২৬ মাসস
যুগ যুগ ধরে মানুষের সেবায় নিয়োজিত প্রাণীদের তালিকায় ‘গাধা’র নাম সম্ভবত সবার ওপরে থাকবে। অথচ পরিশ্রমী এই প্রাণীটিই সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার। গাধার এই অসামান্য পরিশ্রম আর ধৈর্যকে স্বীকৃতি দিতেই আজকের দিনটিকে বিশ্ব গাধা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
মরু অঞ্চলের প্রাণীদের নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানী আর্ক রাজিক এই দিবসের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি লক্ষ্য করেন, মানব সভ্যতার উন্নয়নে গাধা অসামান্য অবদান রাখলেও তারা সবসময় প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। এই প্রাণীর গুরুত্ব সবার সামনে তুলে ধরতে তিনি প্রথমে একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব গাধা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ৮ মে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।
আধুনিক গাধা মূলত আফ্রিকান বন্য গাধার দুটি উপপ্রজাতি (সোমালি ও নুবিয়ান) থেকে এসেছে। বিদ্যুৎ বা বাষ্পীয় ইঞ্জিনের আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই গাধা মানুষের শক্তির প্রধান উৎস ছিল। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, বিরূপ আবহাওয়ায় টিকে থাকা এবং ভারী বোঝা বহন করার অসামান্য ক্ষমতা এই প্রাণীটিকে অনন্য করে তুলেছে।
অবহেলিত এই প্রাণীর রয়েছে কিছু মজার তথ্য। ঘণ্টায় প্রায় ৩১ মাইল বেগে দৌড়াতে গাধার বেশ কিছু প্রজাতি। প্রাণীটির গড় আয়ু ৫০ থেকে ৫৪ বছর। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল— ডেমোক্র্যাটদের দলীয় প্রতীকও এই গাধা।
গাধা কেবল একটি ভারবাহী প্রাণী নয়, বরং প্রকৃতির এক চমৎকার উপহার। এই শান্ত ও পরিশ্রমী প্রাণীটির প্রতি মানুষ যেন আরও বেশি সদয় হয় এবং তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু প্রদান করে, সেজন্যই এই দিবসটি পালন করা হয় বিশ্বে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম