ডিম আগে না মুরগি আগে এ প্রশ্নের সহজ সমাধান নেই। ডিমকে পূর্ব বিবেচনায় নিতে যেমন উৎপাদকের অস্তিত্ব প্রয়োজন তেমনি ডিমের আগে মুরগির পূর্ব বিবেচনায় এর জন্ম উপকরণ অর্থাৎ ডিমের অস্তিত্বের বিষয়টি অনিবার্যভাবে নির্ধারিত হতে হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, সমতলপৃষ্ঠে প্রাণীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় ১০ কোটি বছর আগে; অথচ, ডিমের অস্তিত্ব ২৫ কোটি বছর আগের। যার মধ্যে জীবন সুপ্ত এবং শক্ত খোলসে আবৃত ছিল। অর্থাৎ তারা বলতে চেয়েছেন, মুরগীর আগেই ডিমের উৎপত্তি। অন্যদিকে, মুরগি; পাখি গোত্রের এবং হাজার হাজার বছর ধরে ডাইনোসারের বিবর্তবনে ফলেই সেই পাখির উৎপত্তি যা আরও পরে মুরগিতে রূপান্তরিত হয়েছে। তবে এটি নিয়ে বিতর্ক আছে এবং থাকবে। সাধারণ মানুষ যারা মুরগির পক্ষে কিংবা ডিমের পক্ষে অবস্থান করছেন তারা কেউ কাউকে প্রথম অস্তিত্বের প্রশ্নে ছাড় দিতে নারাজ। মুরগি গবেষক জন ডি মরিসের মতে, মুরগির অস্তিত্ব পাওয়া যায় ডিমের অনেক আগেই। ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে বলা হয়েছে, মুরগির উৎপত্তি আগে এবং ডিম তারই জন্মচক্র। পবিত্র কোরআনে পৃথিবীকে ডিম্বাকার বলা হলেও যখন কুরাইশদের মধ্যে কেউ কেউ ডিম কেমন তা দেখতে চেয়েছিল, তখন ডিম দেখিয়ে তাদের অবিশ্বাসকে পাল্টে দেয়া সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ ধর্মমতে, ডিমের উৎপত্তির সময়টা আরো কমে এসেছে বলে অনেকের ধারণা। বিবর্তনবাদের ধারায় ডাইনোসার থেকে পাখিপরবর্তী যে মুরগির উৎপত্তি সেখানেও বিপত্তি কম নয়। ডাইনোসারের পিঠের হাড় সলিড হলেও মুরগির দাড়া কোষাকৃতি। সরীসৃপ জাতীয় ডাইনোসারের রক্ত শীতল অথচ মুরগির রক্ত উষ্ণ। উভয়ের ফুসসুসের কার্যপ্রণালীও ভিন্ন। ফলে বিবর্তনবাদে এই যে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে যেখানে পাখি ও মুরগিতে রূপান্তর ঘটেছে তার যৌক্তিকতা নিয়ে বির্তক শেষ হয়নি। ডিমের আগমন আগে বলে যারা বিতর্কে আছেন তারা কেউই কার অংশগ্রহণে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা প্রাপ্তির বিষয়টি সম্পন্ন হয়েছে তার উল্লেখ করেন না। জাপানের এক গবেষণা মতে, থাইল্যান্ডের কুক্কুট জাতীয় এক বন্যপ্রজাতির পাখির ডিএনএ অপরাপর পরিবর্তনের মাধ্যমে আজকের এই মুরগীর উৎপত্তির মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। মুরগি আগে না ডিম আগে- এ বিষয়ে দার্শনিক এরিস্টোটালের ধারণা, যদি কোন প্রথম মানব কল্পনা করা হয় তবে তার বাবা-মা থাকতে হবে; তা না হলে প্রাকৃতিক শক্তির ওপরই নির্ভর করতে হবে। ডিম ও মুরগী উভয়েের ক্ষেত্রে একই বিবেচনা প্রযোজ্য।

প্লেটোর মতে, এ বিষয়ে যার যেটি বিশ্বাস; সেই বিশ্বাসের ভেতরেই বিতর্ক পার হয়ে মুরগি আর ডিমের উভয়েরই প্রাক অস্তিত্ব টিকে থাকবে। রোমান দার্শনিক ম্যকরোকিসের মতে, মুরগীর আগে যেমন ডিমের অস্তিত্ব নেই; তেমনি ডিম ছাড়া মুরগির কল্পনা না করাই ভালো। তবে স্টিফেন হকিংস গভীরভাবে বিশ্বাস করেন যে, ডিমই আগে এসেছে। যা ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্পূর্ণ বিপরীত। মুরগি আগে না ডিম আগে এর তত্ত্বগত বিশ্বাসও আছে। জেনেসিস-১ থেকে জানা যায়, ঈশ্বর প্রথমে সহনাভূতির সঙ্গে পাখি সৃষ্টি করেন; তাদেরকে বলেন, তোমরা ফলদায়ক হও এবং ভ্রমণ করো। এসময় তিনি সাগরকে পানিতে পূর্ণ করেন এবং পাখির জন্য সমতল নির্ধারণ করেন। এবং তাদেরকে উড়তে বলেন। এখানে ডিমের কোন বিষয় উল্লেখ ছিল না। সুতরাং পাখির আগমনকে এখানে এক ধাপ এগিয়ে রাখা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা যায়, গৃহপালিত মুরগীর উৎপত্তি ৮০০০ বছর আগে যা পূর্বোল্লেখিত কোটি কোটি বছরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সুতরাং বিখ্যাত গবেষক, দার্শনিক যে বিতর্কের অবসান করতে পারেননি সেই মুরগি আগে না ডিম আগের বিতর্কে সময় নষ্ট না করে ডিম এবং মুরগির গুরুত্ব সমান সমান ভাবাটাই ভালো।
শেখ নজরুল : কবি ও গানলেখক
মাস্টারি বিডি /চিত্রবিচিত্র ডেস্ক /২৩ নভেম্বর ২০১৮ /০৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম