মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ঝালকাঠি । ২৬ নভেম্বর ২০১৭ । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
দশে মিলে করি কাজ – হারি জিতি নাহি লাজ। আসলে ঐক্যের ভিত্তিতে কোন কাজ শুরু করলে তা খুব সহজেই সফল হয়। মানুষ যখন মানুষের পাশে দাঁড়ায় তখন সেই সম্মিলিত মানবমণ্ডলির শক্তি রোধে কে? তেমনি এক সম্মিলিত কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়ার বাসিন্দারা। কাঠালিয়ায় ফসল রক্ষার্থে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি খালের বাঁধ নির্মাণ করছেন দশ গ্রামের দুই সহস্রাধিক কৃষক পরিবার। বিষখালী নদীর শাখা কুচয়া ডালির খালের এ বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয় শুক্রবার। ১৬০ ফুট প্রশস্ত ও ২০/২৫ ফুট গভীর এ খালের বাঁধ নির্মাণ কাজে ১২০জন শ্রমিক অংশ নেয় এবং দুইটি এসকেবেটার (বেকু মেশিন) ও দুইটা ট্রাক ব্যবহৃত হয়। এতে ব্যয় হয়েছে দুই লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, শৌলজালিয়া ইউনিয়নের দশটি গ্রামের শত শত একর আবাদী ফসলী জমি এ ডালির খালের আমবশ্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় এবং এতে পাকা আমন ক্ষেত ও রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়। জমির ফসল রক্ষায় কৃষকরা একাধিকবার স্বেচ্ছাশ্রমে এ খালটিতে বাঁধ নির্মাণ করে। কিন্তু প্রচন্ড স্রোতে নির্মিত বাঁধ পানিতে ভেসে যায় । সরকারিভাবে কোন সাহায্য না পাওয়ায় ফসল রক্ষার্থে এবছরও দুই হাজার পরিবার থেকে দ্ইু লাখ টাকা চাঁদা তুলে নিজেরাই এ বাঁধ নির্মাণ করলো।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. নাজির হোসেন বলেন, এ খালের কারণে প্রতি বছর শত শত একর জমির ফসল নষ্ট হয়। যে কারণে কয়েক গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে নিজস্ব চাঁদা দিয়ে আবার এ বাঁধ নির্মাণ করলাম।

শৌলজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. মাহামুদ হোসেন রিপন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিষখালী ফোল্ডার-৫ এর আওতায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলেও স্লুইজগোট (ক্লোজান) প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় কয়েকটি গ্রামের ফসল নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ বিশেষ ব্যবস্থায় এ বাঁধ নির্মাণ করলো।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম