মাস্টারি বিডি ডটকম
জয়পুরহাট । ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ । ২৩ ভাদ্র ১৪২৪
জয়পুরহাট জেলায় উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা হিসেবে ১৭৫ মেট্রিক টন চাল ও ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। জেলায় সাম্প্রতিককালের ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে প্রায় ২শ’ কোটি টাকার বিভিন্ন ফসল, রাস্তাঘাট, কালভার্ট এবং মৎস্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোফাক্ষারুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, উজানের ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তা হিসেবে ১৭৫ মেট্রিক টন চাল ও ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। যা ইতোমধ্যে বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। সাম্প্রতিককালের ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে জেলার পাঁচ উপজেলার ২২ ইউনিয়ন ও ২ পৌরসভার ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী জেলায় বন্যায় প্রায় ২শ’ কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জেলা ত্রাণ বিভাগ জানায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে জেলায় বানের পানিতে ১০ হাজার ১২৩ হেক্টর জমির রোপা আমন এবং ৭শ’ হেক্টর জমির শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি হওয়া ফসলের মধ্যে রয়েছে রোপা আমন, শাক সবজি, কলা, হলুদ, আখ ও আমন ধানের বীজতলা। এতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পক্ষ থেকে ১৪৪ কোটি ৭৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি দেখানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা হচ্ছে ৬৪ হাজার ৩৭৫ জন। বিশেষ করে সদর উপজেলা, আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও পাঁচবিবি উপজেলার জমির ফসল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বন্যা পরবর্তী করণীয় নিয়ে ৮ হাজার লিফলেট বিতরণ ও স্থানীয়ভাবে সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় কৃষক পর্যায়ে নতুন করে রোপা আমন চাষের জন্য ৩৪, ৬২ ও বিনা-৭ জাতের ধানবীজ সরবরাহ করা হয়েছে। বানের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করা হয়েছে এবং সহায়তার জন্য সরকারি কোন নির্দেশনা এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান, জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুধেন্দ্রনাথ রায়। এ ছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন ৯০ কিলোমিটার কাঁচা, ৩০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ৩টি কালভার্ট ও সেতুর প্রায় ৩৬ কোটি টাকা, মৎস্য সম্পদের ৫ কোটি টাকা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৩ কিলোমিটার বাঁধ, সড়ক ও জনপদের প্রায় ৪৫ কোটি টাকার রাস্তাঘাটের ক্ষতি দেখানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. মোকাম্মেল হক বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণসহ একটি তালিকা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে তবে এখনো কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম