…একসময় আগুন পুরোপুরি নিভে যায়। ছাই থেকে শুধু ধোঁয়া উড়তে থাকে। এভাবেই রক্ষা পায় পাড়ার ২০/৩০টি পরিবারের ঘর-বাড়ি। রক্ষা পায় তাদের ঘরে রক্ষিত ফসলের বীজ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেই গ্রামটি আজ মধুমতি নদীর ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়েছে…

মধুমতি নদীর পশ্চিম পাড় বরাবর নদী থেকে প্রায় আড়াইশ ফুট দূরে এক প্রত্যন্ত গ্রামে ছিল আমাদের আবাস। গ্রাম এবং নদীর মাঝখানের এলাকাটি ছিল সাদা বালুতে ভরা, যা দুপুরের সূর্যের তাপে উত্তপ্ত হয়ে চিক চিক করতো। গ্রামে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকের বাস। পূর্ব ও পশ্চিমে ছিল মুসলমান পাড়া। মাঝখানে হিন্দু পাড়া। পূর্বদিকের মুসলমান পাড়া সংলগ্ন হিন্দুপাড়া। ঘনবসতিপূর্ণ। জমি চাষাবাদ ছিল মুসলমানদের পেশা। হিন্দুদের যার যার জাত ব্যবসা।
একদিন চৈত্রের এক দুপুরে পূর্বদিকের মুসলমান পাড়ায় এক বাড়ির রান্নাঘরে আগুন লাগে এবং দ্রুত সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ঘরগুলিতে । পাড়ার পুরুষ লোকেরা লাঙল-গরু নিয়ে মাঠে গিয়েছে, সকালবেলা। তখনো ফেরেনি। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে হিন্দুপাড়ার লোকজন ছুটে যায়। কুয়োখানার অল্প পরিমাণ জল আর পাড়ার রান্না ঘর থেকে জলভর্তি কলসী বের করে এনে কাঁথা-কাপড় ভিজিয়ে জ্বলন্ত চালের আগুন ঢেকে দেয় এবং আশপাশ দিয়ে বের হওয়া আগুনের শিখা জল ছিটিয়ে ও ভেজা হাতে ঝাপটা মেরে নিভিয়ে দেয়। আগুন থেকে অন্যান্য ঘর রক্ষা করতে কলাগাছ কেটে এনে আগুনের শিখার উপর চাপিয়ে দেয়। ক্রন্দনরত মেয়েদের সান্ত্বনা দেয় হিন্দু মেয়েরা।
একসময় আগুন পুরোপুরি নিভে যায়। ছাই থেকে শুধু ধোঁয়া উড়তে থাকে। এভাবেই রক্ষা পায় পাড়ার ২০/৩০টি পরিবারের ঘর-বাড়ি। রক্ষা পায় তাদের ঘরে রক্ষিত ফসলের বীজ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেই গ্রামটি আজ মধুমতি নদীর ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়েছে…।
মাস্টারি বিডি ডটকম / ঢাকা / ২২ জানুয়ারি ২০১৮ / ০৯ মাঘ ১৪২৪
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম