
পূর্ব-এশিয়া থেকে আগত এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে ক্যাশিয়া ফিস্টুলা। ইংরেজি নাম গোল্ডেন শাওয়ার। এক সময় এই গাছ আমাদের উপ-মহাদেশেও ছিল। মহাকবি কালিদাসের ‘মেঘদূত’ কিংবা ব্যাসের ‘ভগবত’ সবখানেই এ ফুলের গুণ-কীর্তন করা হয়েছে।…
মাস্টারি বিডি ।
জয়পুরহাট । ০১ জুন ২০১৮ । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪
সোনালু ফুলের ঝলমলে রূপ দেখে মনে হয় কোন রূপসী কন্যা এইমাত্র হলুদের পিঁড়িতে বসল। পুরো গাছ থেকে হলুদ যেন ঝরে ঝরে পড়ছে। গ্রীষ্মের তাপদাহে মানুষ যখন ওষ্ঠাগত সেই সময় বর্ণিল ফুলের সমারোহ চার পাশের রুক্ষতাকে ম্লান করে দেয়। লাল কৃষ্ণচূড়ার ফাঁকে উঁকি দেয়া বেগুনি জারুল ফুল ছাড়াও আপন মহিমায় ঝলমল করে ওঠে সোনাঝরা সোনালু ফুল। চারদিক আমোদিত হয়ে ওঠে।

শীত বসন্তে সোনালু গভীরভাবে ঘুমিয়ে থাকে। বৈশাখের শুরুতে সে ঘুম ভেঙ্গে আড়মোড়া দেয়। পাঁচ পল্লবের দীর্ঘ মঞ্জুরির এ ফুলগুলো ফুটতে থাকে মাঝ গ্রীষ্মে। দেখতে দেখতে ফুলে ছেয়ে যায় পুরো গাছ। জাগতে থাকে নতুন পাতা। সোনালুর প্রধান আকর্ষণ হলো লম্বা ঝুলন্ত পুষ্পমঞ্জরি। কিশোরীর কানের দুলের মতো বৈশাখী হাওয়ায় দুলতে থাকে ফুলের থোকাগুলো। জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে পথিকের মন আনন্দে ভরিয়ে দেয়। আবার ফুলের ফাঁকে দেখা যায় লম্বা ফল।

পূর্ব-এশিয়া থেকে আগত এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে ক্যাশিয়া ফিস্টুলা। ইংরেজি নাম গোল্ডেন শাওয়ার। এক সময় এই গাছ আমাদের উপ-মহাদেশেও ছিল। মহাকবি কালিদাসের ‘মেঘদূত’ কিংবা ব্যাসের ‘ভগবত’ সবখানেই এ ফুলের গুণ-কীর্তন করা হয়েছে। দেশের গ্রামাঞ্চল ছাড়াও জাতীয় সংসদ ভবনে, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, রমনা পার্কসহ বিভিন্ন সড়কের মাঝপথে সোনালু ফুলের গাছ দেখা যায়।

সোনালুর ফুল ও ফল সবই বানরের প্রিয় খাবার। তাই সোনালুর ফলকে বানরের লাঠিও বলা হয় কোন কোন এলাকায়। সোনালুর কাঠ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হলেও অনেক ঔষধী গুণাগুণ রয়েছে। সোনালুর ফলের বিভিন্ন অংশ বাত, বমি, রক্তস্রাব প্রতিরোধে কাজ করে।

সোনালুর ফুল বীজ সহজে অঙ্কুরিত হয় তবে গাছের বৃদ্ধি খুব ধীরে। সোনালু গাছ যত্ন করে না লাগালেও আপন মনেই বেড়ে ওঠে। গরু-ছাগল এ গাছ খায় না। বেড়ে ওঠার সময় তেমন দৃষ্টিতে না পড়লেও ফুল ফোটার পর দেখে সবার মন-প্রাণ প্রশান্তিতে ভরে যায়।
-শাহাদুল ইসলাম সাজু
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম