মাস্টারি বিডি । বাঁধন খান
ফিচার । ঢাকা । ০৬ মে ২০১৯ । ২৩ বৈশাখ ১৪২৬
থোকায় থোকায় লিচুর মতোই গাছে ঝুলে থাকে আর দেখতেও অনেকটা লিচুর মতো। খোসা ছাড়িয়ে রসালো পুরু আঁশ মুখে পুরলে মনে হবে যেন লিচুই খাচ্ছি। আবার গাছটা দেখতেও লিচু গাছের মতো। শুধু নামটায় একটু পার্থক্য এই যা। নাম এর আশফল। ফলের চেহারায় একটু শক্ত কাঠ কাঠ ভাব আছে বলে অনেকে চিনে কাঠলিচু বা পিচফল নামে। আবার অনেকেই একে লংগান বলেই জানেন। এর বৈজ্ঞানিক নাম Dimocarpus longan এবং ইংরেজীতে longan ও dragon eye নামে পরিচিত।
আশফল গাছ মধ্যম আকারের চিরসবুজ গাছ- যা ৬ থেকে ৮ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। আশফল এবং লিচু গাছের ফল ধরার সময় একই। ফলের উপরিভাগ মসৃণ, ফলের রঙ বাদামি, আকার গোল এবং লিচুর চেয়ে অনেক ছোট হলেও ফলের শাঁস সাদা, কচকচে এবং খেতে প্রায় লিচুর মতো। আশফলের বীজ গোলাকার চকচকে কালো এবং শাঁস বীজকে আবৃত করে রাখে এবং সহজেই শাঁস বীজ থেকে আলাদা করা যায়। সাধারণত আগস্ট মাসের শেষার্ধ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত আশফল আহরণ করা হয়। আঁশফলে প্রচুর পরিমাণে শর্করা ও ভিটামিন ‘সি’ থাকে।
বীজ থেকে সহজেই চারা তৈরি করা যায়। গুটি কলম ও গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমেও সহজেই বংশবিস্তার করানো যায়। থাইল্যান্ডের বৃহৎ বাণিজ্যিক ও জনপ্রিয় ফল আশফল। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, হংকং, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে আশফল চাষ হয়। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার জিডিপিতে একটি বড় অংশ যোগ হয় আশফল রপ্তানি করে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের স্থানীয় উদ্ভিদ আশফল গাছ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পথের ধারে অনেক স্থানেই দেখা যায়। তবে আমাদের দেশের স্থানীয় আশফল অনুন্নত মানের হওয়ায় এর ফল আকারে ছোট এবং রসালো অংশ খুবই কম।
আশফল শারীরিক দুর্বলতা তাড়াতে অতুলনীয়। অবসাদ দূর করতেও এর দারুণ সুনাম।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম