
মাস্টারি বিডি | আর কে রাজ
ফিচার ডেস্ক | ঢাকা | ০৫ জুলাই ২০১৯ | ২১ আষাঢ় ১৪২৬
বৃষ্টি হয়ে পানি জমলেই জমে উঠতো কাগজের নৌকা ভাসানোর খেলা। এরকম শৈশব যারা পার করে এসেছেন- নিঃসন্দেহে তারা উজ্জ্বল স্মৃতি ধারণ করা মানুষ। আষাঢ়ে বর্ষায় বাদলে তো বটেই অন্য কোনো সময়েও বৃষ্টি হলে ছোটরা শাদা নীল লাল বাহারি কাগজের নৌকা বানাতে লেগে যেতো। তার পর যখন সেটিকে পানিতে ভাসিয়ে হাত দিয়ে আস্তে আস্তে ঢেউ দিয়ে দূরে পাঠানো হতো- ছেলেমেয়েদের মধ্যে তখন যে কী আনন্দ। কার নৌকাটি কেমন- কারটি বেশি দূরে গেলো- কারটি বেশি পানি লেগে ডুবু ডুবু অবস্থা! এইসব নিয়ে সে এক অন্যরকম আনন্দ!

গ্রামে তো বটেই রাজধানীসহ অন্য শহরগুলো যখন এতটা ব্যস্ত হয়ে ওঠেনি- শিশুদের ওপর যখন বিদ্যালয়ের পাঠ এত কঠিনভাবে চেপে বসেনি- তখন এই প্রাণের খেলাগুলোতে শিশুরা মেতে ওঠার সুযোগ পেতো। আজ আর তেমনটি দেখা যায় না। ভেজাল খাবারে- পরিবেশ দূষণে শিশু-কিশোরসহ সবারই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে- সবমিলিয়ে এইসব হিসেব-কেতাবের ভেতর একসময়ের নির্মল বিনোদন থেকে শিশুরা হচ্ছে বঞ্চিত। অবশ্য এর পরিবর্তে তাদের হাতে উঠে এসেছে প্রযুক্তিনির্ভর নানাধরনের খেলাধুলা। আই ফোন এন্ড্রোয়েড ফোনে মারাত্মক নেশার মতো গেমস খেলছে- ইউটিউব চ্যানেলে গিয়ে ছিটেফোঁটা ভালর সঙ্গে মন্দটিই শিখছে খুব বেশি করে!

আউটডোরে খেলাধুলা করতে পারলে শিশুর শারিরীক মানসিক যে উন্নতিটি হতো- প্রযুক্তির যথেচ্ছা অপব্যবহারের ফলে সেটি হচ্ছে বিঘ্নিত।

তবে এবস্থা থেকে কীভাবে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটিয়ে তাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়া যায়- তা নিয়ে অবশ্যই আামাদের ভাবতে হবে- এবং তা এখনই।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম