মাস্টারি বিডি ডটকম
পিরোজপুর । ১৮ নভেম্বর ২০১৬ । ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জনপ্রিয় উপন্যাসিক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, পৃথিবীর কোন দেশ বাংলাদেশকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। এমন সময় আসবে বাংলাদেশ ইউরোপের মত উন্নত দেশ হবে। তখন বিদেশীরা আমাদের দেশে চিকিৎসা নিতে আসবে।
পিরোজপুরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তবে এ জন্য তোমাদের লেখাপড়া করতে হবে। তাহলেই দেশ পালটে যাবে। সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তোমাদের পড়তে হবে। দেশকে নিজের মায়ের মতো ভালবাসতে হবে।
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল আজ শুক্রবার বিকেলে পিরোজপুর গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাব মাঠের স্বাধীনতা মঞ্চে শিক্ষার্থী সমাবেশ ও তার পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদের স্মরণসভায় বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন।
সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক তার বাবার কবর জিয়ারত ও স্মরণসভায় অংশ নিতে আজ সকালে স্বপরিবারে পিরোজপুর পৌঁছেন। তার সঙ্গে তার ছোট ভাই জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট আহসান হাবিব, বড় বোন সুফিয়া হায়দার ও তাদের দু’ভাইয়ের স্ত্রী, পুত্র ও কন্যারা রয়েছেন।
জাফর ইকবাল বলেন, শুধু আমার বাবাকে স্মরণ নয়, মুক্তিযুদ্ধে পিরোজপুরে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রত্যককেই স্মরণ করতে হবে এবং তাদের মহান আত্মত্যাগের কাহিনী তোমাদের জানতে হবে।
অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, পিরোজপুরে আমার বাবা শহীদ ফয়জুর রহমান শুয়ে আছেন। এ জন্য পিরোজপুরকে আমি আমার নিজের জেলা মনে করি।
পিরোজপুরের সড়কগুলোকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করায় তিনি অভিভূত হয়েছেন বলেও জানান।
স্মরণসভায় তিনি শহর ও শহরতলির বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নিজের স্বাক্ষরিত বই প্রদান করেন।
ড. জাফর ইকবাল আজ সকালে লঞ্চ থেকে পিরোজপুর নেমে প্রথমেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাবার কবর জিয়ারত ও দোয়া করতে যান। এরপর বলেশ্বর ঘাটের শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে খেয়া নৌকায় বলেশ্বর নদের উত্তর দিকে নিমার খালের মাথায়, যেখানে তার বাবার লাশ পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে যান।
তার পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ স্বাধীনতাপূর্ব তৎকালিন পিরোজপুর মহকুমা পুলিশ প্রধান ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৫ মে ফয়জুর রহমানকে পাকহানাদার বাহিনী পিরোজপুর শহরের বলেশ্বর নদের তীরে গুলি করে ও বেওনেট দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে লাশ নদে ফেলে দেয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এস এম সোহরাব হোসেন। বক্তব্য রাখেন জাফর ইকবালের সহধর্মিনী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এ্যাডভোকেট এম এ মান্নান, জাফর ইকবালের বোন সুফিয়া হায়দার, ভাই কার্টুনিষ্ট আহসান হাবীব শাহীন, পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গৌতম চৌধুরী ও এম এ রব্বানী ফিরোজ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন গণউন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক জিয়াউল আহসান।
সূত্র : বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম