মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ । ১৯ ভাদ্র ১৪২৪
আমি যাদের সঙ্গে প্রেম করেছি
আমি যাদের সঙ্গে প্রেম করেছি
তারা প্রত্যেকে বেশ বোকা প্রকৃতির ছিলো
বিষয়টি নিয়ে সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের পর
বুঝতে পারলাম-সুন্দরীরা একটু বোকাই হয়!
আমি যাদের সঙ্গে প্রেম করেছি
তারা প্রত্যেকে বেশ সরল আকৃতির ছিলো
প্রকৃতির মতো তারা ছিলো, ষড়ঋতু সম্ভরা
বর্ষায় যেমন তারা উদাসিনী, হেমন্তে তেমন-
নতুন শস্যের সুগন্ধি; শরতে তারা শুভ্র আকাশ
তারা প্রত্যেকে শীতের পোশাকের মতো উষ্ণ ছিলো
তারা প্রত্যেকে ছিলো বসন্তের মতো উদার
আর গ্রীষ্মের মতো প্রাণবন্ত!
আমি যাদের সঙ্গে প্রেম করেছি
তারা প্রত্যেকে বেশ সোজা প্রকৃতির ছিলো
তাদের ইশারায় ডাকলে, সরাসরি আসতো
তারা চুম্বনের আগেই ঠোঁট খুলে দিতো
তারা তালা-চাবির মতো জটিল ছিলো না
তারা বাঘবন্দি খেলা শুরু করার আগেই
নিজেরা নিজেদের চালে বন্দি হয়ে যেতো
সাপলুডু খেলায় যেভাবেই হোক
তারা চাইতো, সাপের মুখে পড়তে
আমি যাদের সঙ্গে প্রেম করেছি
তারা প্রত্যেকে গোলাপি প্রকৃতির ছিলো
বিষয়টি নিয়ে বিস্তর অনুসন্ধানের পর
বুঝতে পারলাম সুন্দরীদের মতো গোলাপও বোকা
এবং তারা প্রত্যেকে গোলাপের মতো বোকাই ছিলো
তারা কেউ পাখি ছিলো, কেউ ছিলো মধ্যরাতের ঝিঁঝিঁ
সারারাত ঝিঁঝিঁর মতো অকারণ ডাকাডাকি করতো?
তাদের জানাই ছিলো না, সব আর্তনাদে সাড়া পাওয়া যায় না
আমি যাদের সঙ্গে প্রেম করেছি
তারা প্রত্যেকে বেশ অলস প্রকৃতির ছিলো
তারা সবাই কেন্দ্রে বসেই বৃত্ত আঁকতে চেষ্টা করতো
তবে তারা কেউ কম্পাস কাঁটার মতো সুচালো ছিলো না
বরং তারা পুরাতন হুল নিয়ে হুলুস্থূল ঘটাতে ভালোবাসতো!
তোমার কাছে আসি, শান্তির খোঁজে
তোমার কাছে আসি, শান্তির খোঁজে
অখ- জীবনের জন্য, একখণ্ড শান্তি চাই
ছোট্ট একটা শান্তি, হালকা একটা শান্তি
খুব সাধারণ পোশাকপরা রঙচটা শান্তি
তোমার কাছে থাকি, শান্তির লোভে
লম্বা একটা জীবনের জন্য
পুরু একটা শান্তির লোভ
সাবানে ধুয়ে রোদে শুকোতে দেয়া
টানটান রশি থেকে ছিঁড়ে পড়ার শান্তি
পোড়া-পোড়া জীবনের জন্য
আগুন-আগুন শান্তি চাই
তোমার কাছে আসি শান্তিতে পুড়তে
এক লাটাই শান্তির জন্য
ভরদুপুরে চাই, একটা সুতোয়, একটু ঘুরতে!
ভরদুপুরে চাই, একটা সুতোয়, একটু ঘুরতে!
তোমার অরূপ জলে
বিদায় বৃষ্টি
যেখানেই থাকো, ভালো থেকো
আগামী বরষায় নতুন জলে
আবার ভেজাতে এসো
এই পোড়া দেহ, এই অভাবী মন
এই উর্বর মাটি, শস্য অলংকরণ
মনে গেঁথে রেখে
ভালোবেসো, অকৃপণ ভালোবেসো
এই কষ্টের নদী, এই বিবর্ণ সবুজ
এই মানুষের মনে, বিভেদের ত্রিভুজ
তার শুভ্রতা ছড়াতে, সতেজ জাগাতে
নতুন জলের গানে
আবার ভেজাতে এসো
বিদায় বৃষ্টি
তোমার শেষ ধারায় ছুঁয়েছি অধর
তোমার অরূপ জলে দিয়েছি চুম্বন
তোমার স্নিগ্ধ নাভিমূলে ভিজিয়েছি চোখ
মনে রেখো, মনে রেখো!
বিদায় বৃষ্টি, আপাতত
আরেক জীবনের প্রয়োজনে
যেখানেই থাকো, ভালো থেকো
আগামী বরষায় নতুন জলে
আবার ভেজাতে এসো।
প্রিয় বান্ধবীর সাথে
তারপর বলো, কেমন আছো?
সন্ধ্যার পর, চা-কয় কাপ হলো?
সিগ্রেটও কি সমান সমান?
ভাবছো, আমি কোনো পুরুষ বন্ধুকে লিখছি
তা কিন্তু নয়! আমার প্রিয় বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলছি
বলছি, চায়ে চিনি আর দুধের মাত্রা বাড়িয়ে নিতে
আমার বান্ধবীর সিগ্রেটের টান বড়ই সুন্দর
ওর সঙ্গে কথা শুরু না হলে, আমার কবিতাই হয় না
কথা যখন শুরু হয়েছে, ভাবছি কবিতাটাও শেষ করি-
রাত পোহালেই কাল সরকারি ছুটি
কাল একটু ভালো কিছু রান্না করো
বিশেষ করে আলু ভর্তা, বেগুন ভাজি
আর ছোট মাছ দিয়ে আলু চর্চ্চরি
সঙ্গে ঘন ডাল আর সীমের স্বাদ-বাহারি
সরকারি ছুটির দিনে মোরগ-মুরগির গায়ে
হাত না দেওয়াই ভালো
ইলিশ মাছের জাতীয় মর্যাদাও অক্ষুণ্ন থাক!
আমার প্রিয় বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলছি
কি যে হয় মাঝে মাঝে
আজ আবার হচ্ছে, আরাম পাচ্ছি না
ইজি চেয়ারে বসে সামনে পিছনে দুলছি
আন ইজি লাগছে, আরাম পাচ্ছি না
নাকের ওপর গোলাপ চেপে গন্ধ নিচ্ছি
সুগন্ধ আসে না, সুগন্ধ আসে না, বরং
একটা পতঙ্গ কুট করে কামড় বসালো
একটু খোলামেলা, ঝর্নার নিচে অঝোর ধারায়
মাথার ওপর জল গড়িয়ে পায়ে যেতে যেতে
ঠিক মাঝপথে আরাম পাচ্ছি না!
কি যে হয় মাঝে মাঝে!
আমার প্রিয় বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলছি
এই তো, ভালোই আছি
তারপর, বলো, কেমন আছো!

মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম