নীহার রঞ্জন গুপ্তের উপন্যাসের সংখ্যা দুইশতেরও বেশি। এছাড়া তার অন্তত ৪৫টি উপন্যাস চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। তিনি বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র কিরীটি রায়ের স্রষ্টা হিসেবে উপমহাদেশে স্মরণীয় হয়ে আছেন। বড়দের ও ছোটদের উপযোগী- উভয় ধরনের গোয়েন্দা উপন্যাস রচনায় যথেষ্ট পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন নীহার রঞ্জন।…
মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
ঢাকা । ১০ জুন ২০১৮ । ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪
উপমহাদেশের প্রখ্যাত উপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্ত’র ১০৭তম জন্মজয়ন্তী উৎসব উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ‘মনিকা একাডেমি’র আয়োজনে শুক্রবার সকালে নড়াইল শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসব শেষে ওইদিন ১৭ সদস্য বিশিষ্ট উপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্ত স্মৃতি সংসদের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়।
সুলতান মাহমুদকে সভাপতি, সবুজ সুলতানকে সাধারণ সম্পাদক করে আগামী ৩বছরের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি চিত্রশিল্পী আলী আজগর রাজা ও সহকারী অধ্যাপক বেলাল সানি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধি আজগর ঝিলিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারজিন আহমেদ, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক মো: হাদিউজ্জামান হৃদয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক মিলন বিশ্বাস তন্ময়, সহ-প্রচার সম্পাদক হৃদয় হোসেন, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সৌরভ, নির্বাহী কমিটির সদস্য সহকারী অধ্যাপক মো: আলমগীর হোসেন, কবি কামনা ইসলাম, কবি ও লেখক দ্বিজেন্দ্র লাল রায়, আবৃত্তিকার মো: মোদাব্বির হোসেন ও মনিকা আক্তার লতা।
১৯১১ সালের ৬ জুন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন উপন্যাসিক ডা: নীহার রঞ্জন গুপ্ত। তাঁর বাবার নাম সত্যরঞ্জন গুপ্ত ও মায়ের নাম লবঙ্গলতা দেবী।

নীহার রঞ্জন গুপ্ত গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনী লেখক হিসেবে যেমন জনপ্রিয় ছিলেন, তেমনি চিকিৎসক হিসেবেও ছিলেন স্বনামধন্য। নীহার রঞ্জন গুপ্তের উপন্যাসের সংখ্যা দুইশতেরও বেশি।
এছাড়া তার অন্তত ৪৫টি উপন্যাস চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। তিনি বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র কিরীটি রায়ের স্রষ্টা হিসেবে উপমহাদেশে স্মরণীয় হয়ে আছেন। বড়দের ও ছোটদের উপযোগী- উভয় ধরনের গোয়েন্দা উপন্যাস রচনায় যথেষ্ট পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন নীহার রঞ্জন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো- কালোভ্রমর, মৃত্যুবাণ, কালনাগ, উল্কা, উত্তর ফাল্গুনী, হাসপাতাল, লালুভুলু, রাতের রজনীগন্ধা, কিরীটি, অমনিবাস, অপারেশন, ‘মঙ্গলসূত্র’, ‘উর্বশী সন্ধ্যা’, বহ্নিশিখা’, ‘অজ্ঞাতবাস’, ‘অমৃত পাত্রখানি’, ‘ইস্কাবনের টেক্কা’, ‘অশান্ত ঘূর্ণি’, ‘মধুমতি থেকে ভাগীরথী’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘অহল্যাঘুম’, ‘ঝড়’, ‘সেই মরু প্রান্তে’, ‘ধূসর গোধূলী’, ‘কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী’, ‘ছিন্নপত্র’, ‘কালোহাত’, ‘ঘুম নেই’, ‘পদাবলী কীর্তন’, ‘কলঙ্ককথা’, ‘কাজললতা’, ‘কন্যাকুমারী’, ‘সূর্য তপস্যা’, ‘মায়ামৃগ’, ‘ময়ূর মহল’, ‘বাদশা’, ‘রত্রি নিশীথে’, ‘কনকপ্রদীপ’, ‘মেঘকালো’, ‘কাগজের ফুল’, ‘নিরালাপ্রহর’, ‘রাতের গাড়ী’, ‘কন্যাকেশবতী’, ‘নীলতারা’, ‘নূপুর’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘মধুমিতা’, ‘মুখোশ’, ‘রাতের রজনী গন্ধা’ ও ‘কিশোর সাহিত্য সমগ্র’।

নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯৮৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম