মাস্টারি বিডি ডটকম । কামাল বারি
ঢাকা । ৩০ অক্টোবর ২০১৭ । ১৫ কার্তিক ১৪২৪
আজ প্রথিতযশা ছড়াকার সুকুমার রায়ের ১৩০তম জন্মদিন। ১৮৮৭ সালের এইদিনে (৩০ অক্টোবর) কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন প্রবাদপ্রতীম এই ছড়াকার। এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে সুকুমার রায়ের লেখা ছড়া পড়েনি। মাত্র ৩৫ বছর ১০ মাস ১০ দিনের জীবন তাঁর। তিনি দেখে যেতে পারেননি নিজের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থটিও।

অবিভক্ত বাংলাসাহিত্যে কালজয়ী ছড়াকার, বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার ও নাট্যকার সুকুমার রায়ের বাবা ছিলেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। তাঁর স্ত্রী’র নাম সুপ্রভা রায়। তাঁদের ছেলে সত্যজিৎ রায় বিখ্যাত বাঙালি চলচ্চিত্রকার।
‘আবোল-তাবোল’, ‘হ য ব র ল’, পাগলা দাশু’, ‘চলচ্চিত্রচঞ্চরী’ ইত্যাদি কালজয়ী কৌতুকধর্মী রচনার জন্য তিনি মৃত্যুর পরেও সমানভাবে সমাদৃত- এমনকি বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনেও তিনি নিজস্ব আসনের দাবিদার।
সুকুমার রায়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ছড়া ‘বাবুরাম সাপুড়ে’র কয়েক পঙক্তি হচ্ছে- বাবুরাম সাপুড়ে,/ কোথা যাস্ বাপুরে?/ আয় বাবা দেখে যা,/ দুটো সাপ রেখে যা!/ যে সাপের চোখ নেই,/ শিং নেই নোখ্ নেই,/…
আরেকটি ছড়া ‘প্যাঁচা আর প্যাঁচানি’তে তিনি লিখেন- প্যাঁচা কয় প্যাঁচানি,/ খাসা তোর চ্যাঁচানি!/ শুনে শুনে আন্মন/ নাচে মোর প্রাণমন!/…
পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর মৃত্যুর পর ‘সন্দেশ’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সুকুমার রায় ।
সুকুমার রায় স্বল্পস্থায়ী জীবনে অনেক কাজ করে গেছেন। সন্দেশের সম্পাদক থাকাকালীন তাঁর লেখা ছড়া, গল্প ও প্রবন্ধ আজও বাংলা শিশুসাহিত্যে মাইলফলক হয়ে আছে। তাঁর বহুমুখী প্রতিভার অনন্য প্রকাশ তাঁর অসাধারণ ননসেন্স ছড়াগুলোতে। তাঁর প্রথম ও একমাত্র ননসেন্স ছড়ার বই ‘আবোল-তাবোল’ শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, বরং বিশ্বসাহিত্যেরও অমূল্য সম্পদ। তাঁর রচিত ছড়ার কয়েক ছত্র- ‘সাগর যেথা লুটিয়ে পড়ে নতুন মেঘের দেশে/আকাশ-ধোয়া নীল যেখানে সাগর জলে মেশে।/ মেঘের শিশু ঘুমায় সেথা আকাশ-দোলায় শুয়ে-/ ভোরের রবি জাগায় তারে সোনার কাঠি ছুঁয়ে।’
প্রেসিডেন্সী কলেজে পড়বার সময় তিনি ননসেন্স ক্লাব নামে একটি সংঘ গড়ে তুলেছিলেন। এর মুখপত্র ছিল ‘সাড়ে বত্রিশ ভাজা’ নামের একটি পত্রিকা। সেখানেই তাঁর আবোল-তাবোল ছড়ার চর্চা শুরু। পরবর্তীতে ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পর মনডে ক্লাব (ইংরেজি ভাষা: Monday Club) নামে একই ধরনের আরেকটি ক্লাব খুলেছিলেন তিনি। মনডে ক্লাবের সাপ্তাহিক সমাবেশে সদস্যরা ‘জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ’ পর্যন্ত সব বিষয়েই আলোচনা করতেন। সুকুমার রায় মজার ছড়ার আকারে এই সাপ্তাহিক সভার কয়েকটি আমন্ত্রণপত্র করেছিলেন সেগুলোর বিষয়বস্তু ছিল মুখ্যত উপস্থিতির অনুরোধ এবং বিশেষ সভার ঘোষণা ইত্যাদি।

ইংলান্ডে থাকাকালীন তিনি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের বিষয়ে কয়েকটি বক্তৃতাও দিয়েছিলেন- রবীন্দ্রনাথ তখনও নোবেল পুরস্কার পাননি। ইতিমধ্যে সুকুমার লেখচিত্রী/প্রচ্ছদশিল্পী রূপেও সুনাম অর্জন করেছিলেন। তাঁর প্রযুক্তিবিদের পরিচয় মেলে, নতুন পদ্ধতিতে হাফটোন ব্লক তৈরি আর ইংল্যান্ডের কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর প্রযুক্তি বিষয়ক রচনাগুলো থেকে।

১৯২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তখনকার দিনে দূরারোগ্য কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এ প্রথিতযশা সাহিত্যিক।
এ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন সুকুমার। কিন্তু তিনি রয়ে গেছেন তাঁর সমৃদ্ধ রচনার মধ্যে, বাঙালির মনে ও মননে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম