মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ঢাকা । ২৫ এপ্রিল ২০১৮ । ১২ বৈশাখ ১৪২৪
সরকারি সহায়তায় স্থাপিত লিগ্যাল এইডের জাতীয় হেল্প লাইনের মাধ্যমে প্রায় ২৬ হাজার লোক বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা পেয়েছেন।
২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ‘টোল ফ্রি হেল্প লাইন-১৬৪৩০’ উদ্বোধন করেছিলেন। এরপর থেকে দেশের মানুষ এ হেল্প লাইনের সহায়তায় আইনি সুযোগ গ্রহণ করছেন।
জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার সহকারি পরিচালক ও সিনিয়র সহকারি জজ কাজী ইয়াসিন হাবিব সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জানান, টোল ফ্রি হেল্প লাইনটি প্রতিষ্ঠার পর মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত ২৫ হাজার ৮৮৭ জন আইনি সহায়তা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে নারী ৭ হাজার ৮৮৫ জন এবং পুরুষ ১৮ হাজার ৩ জন।
তিনি জানান, জাতীয় আইনগত সহায়তা তথা লিগ্যাল এইড সার্ভিস প্রতিষ্ঠার পর মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত ২ লাখ ৩১ হাজার ৬২৬ জন আইনি সেবা গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই এ ধরনের সেবা কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ সেবা চালু ছিলো সময়ের দাবি। সে আলোকে দেশের দরিদ্র ও অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠী, শ্রমিক, সহিংসতার শিকার নারী-শিশু এবং পাচারের শিকার মানুষের জন্য আইনি সেবা নিশ্চিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০০ সালে আইন প্রণয়নের মধ্যদিয়ে এর যাত্রা শুরু করে।
পরে এই আইনের অধীনে বিভিন্ন বিধি প্রণীত হয়। বিধিতে কারা আইনি সহায়তা পাবেন তা নির্ধারণ করা হয়। তিনি বলেন, দেশের সবক’টি জেলা আদালত, চৌকি আদালত এবং সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড সার্ভিস চালু রয়েছে।
ইয়াসিন হাবিব জানান, আগামী ২৮ এপ্রিল দেশে ষষ্ঠবারের মতো ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ পালিত হবে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ‘উন্নয়ন আর আইনের শাসনে এগিয়ে চলছে দেশ/ লিগ্যাল এইডের সুফল পাচ্ছে সারা বাংলাদেশ।’
দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। দরিদ্র, নিঃস্ব ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইয়াসিন হাবিব জানান, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসগুলোকে এখন শুধু আইনি সহায়তা প্রদানের কেন্দ্র হিসেবেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি, মামলা জট কমানোর লক্ষ্যে এ অফিসগুলোকে ‘এডিআর কর্নার’ বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
তিনি জানান, পক্ষসমূহের সম্মতির ভিত্তিতে লিগ্যাল এইড অফিসে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে। মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৬শ’ মামলা এডিআর’র মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং বিরোধে প্রায় ৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।
সরকারের এই আইনি সেবা প্রদানের বিষয়ে ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৮ এপ্রিলকে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ ঘোষণা করা হয় এবং ওই বছর থেকেই ২৮ এপ্রিল জাতীয়ভাবে আইনগত সহায়তা দিবস পালন করা হচ্ছে। গতবছর এ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘বিরোধ হলে শুধু মামলা নয়- লিগ্যাল এইড অফিসে আপোসও হয়’। বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম